রাখি বন্ধনের ঠিক আগে রক্তে ভিজল ভাইয়ের হাত! জোড়া খুন উত্তরাখণ্ডে, কারণ জানলে শিউরে উঠবেন

উৎসবের আনন্দ ম্লান করে দিয়ে রাখি বন্ধনের ঠিক প্রাক্কালে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বার। উৎসবের আনন্দ আসার আগেই ভাইয়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হলেন দুই দিদি। মঙ্গলবার গভীর রাতে হরিদ্বারের রুরকি এলাকায় এই জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত যুবকের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন এক ভগ্নিপতিও। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক বা সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো বিবাদের জেরেই এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।

জাতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, উত্তরাখণ্ডের গাংনাহার এলাকার গণেশপুর ও আজাদনগরে এই রক্তহিম করা ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত যুবকের নাম বিবেক কুমার। রাখি পূর্ণিমার ঠিক দু’দিন আগে মঙ্গলবার রাতে আকস্মিকভাবে নিজের দুই দিদির বাড়িতে গিয়ে চড়াও হয় বিবেক। প্রথমে সে আজাদনগর এলাকায় তার ৪৮ বছর বয়সি দিদি পুষ্পার বাড়িতে যায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই নিজের দিদিকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি চালায় সে। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন ওই মহিলা এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুষ্পাকে খুন করার পরেই থেমে থাকেনি উন্মত্ত বিবেক। এরপর সে সোজা চলে যায় গণেশপুরে তার অন্য এক দিদি শকুন্তলার বাড়িতে। সেখানে পৌঁছানোর পর শকুন্তলা ও তাঁর স্বামী অর্থাৎ বিবেকের ভগ্নিপতির ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে সে। ৫০ বছর বয়সি শকুন্তলার ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত হন তাঁর স্বামীও, যাকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে এবং তাঁর অবস্থাও যথেষ্ট আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।

জোড়া খুনের এই রোমহর্ষক খবর পেয়েই স্থানীয় দুটি থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী অবিলম্বে ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ততক্ষণে অবশ্য অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত বিবেক কুমার। ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, হরিদ্বারের পুলিশ সুপার সহ একাধিক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক ব্যক্তিগতভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের সন্ধানে ইতিমধ্যেই একাধিক দল গঠন করে চিরুনি তল্লাশি শুরু হয়েছে।

তবে ঠিক কী কারণে বিবেক তার নিজের দুই দিদির ওপর এমন পৈশাচিক হামলা চালাল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ পরিবার এবং প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে খতিয়ে দেখছে এর নেপথ্যে কোনো সম্পত্তিগত বিবাদ, পারিবারিক কোনো ক্ষোভ কিংবা অন্য কোনো গভীর কারণ লুকিয়ে রয়েছে কি না। উৎসবের আবহেই এই মর্মান্তিক জোড়া খুন পুরো সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে।