টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বয়সে ছাড়ের আবেদন খারিজ করল কলকাতা হাইকোর্ট, ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার হুঁশিয়ারি

২০২০ সালের টেট (TET) উত্তীর্ণ প্রার্থীরা ২০২৩ সালের নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বয়সসীমায় ছাড় দিয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে যে আবেদন জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার তা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু একক বেঞ্চে এই আবেদন খারিজ করার পর, চাকরিপ্রার্থীরা ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।
আবেদনকারীদের মূল যুক্তি:
আবেদনকারী শুভাশিস ধারা, গোলাম মুর্শিদ মণ্ডল-সহ একাধিক চাকরিপ্রার্থীর পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এবং বিক্রম বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে সওয়াল করেন। তাঁদের যুক্তি ছিল:
বিগত পাঁচ বছর ধরে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, ফলে বহু পরীক্ষার্থী সুযোগ পাননি।
এর আগে ২০১৭ সালের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে হাইকোর্ট একই ধরনের মামলায় বয়সে ছাড় দেওয়ার রায় দিয়েছিল। তাই এক্ষেত্রেও ২০২২ সালের টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য, তাঁরা ২০২২ সালে টেট পাশ করলেও সেই সময় হাতে শংসাপত্র না পাওয়ায় পূর্ববর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারেননি। এখন ২০২৩ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে গেলে বয়স তাঁদের কাছে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে, তাই তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করা হোক।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অবস্থান:
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের আইনজীবী সুবীর সান্যাল আদালতকে জানান:
২০১৭ সালে যে বয়সে ছাড় দেওয়া হয়েছিল, তা একটি নির্দিষ্ট ২০১৬ সালের রুল চ্যালেঞ্জ করার ফলে হয়েছিল, যার সঙ্গে বর্তমান মামলার ভিন্নতা রয়েছে।
পর্ষদ প্রতি বছর শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিতে বাধ্য নয়।
টেট শংসাপত্র হাতে না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা ২০২৩ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একবার বসার সুযোগ চাইছেন, কিন্তু বোর্ড তাতে রাজি নয়।
বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর চাকরিপ্রার্থীদের আবেদন খারিজ করে দেন। এই রায়ের ফলে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জটিলতা আরও বাড়ল।