বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ছোটখাটো অভ্যাসই বাড়ির পরিবেশ ও শক্তির ভারসাম্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। পুজো-পার্বণে প্রদীপ বা ধূপ জ্বালানো অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ আচার হিসেবে বিবেচিত। ধূপের সুগন্ধ এবং প্রদীপের স্নিগ্ধ আলো যেমন মনকে শান্ত করে, তেমনি বাড়ির পরিবেশকেও পবিত্র করে তোলে। তবে এই পুণ্যময় কাজটি করার সময় যদি সঠিক নিয়ম মেনে না চলা হয়, তবে হিতে বিপরীত হতে পারে। বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির নির্দিষ্ট কিছু স্থানে যথেচ্ছভাবে প্রদীপ বা ধূপ রাখা চরম অশুভ এবং এর ফলে বাস্তুদোষ তৈরি হতে পারে। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা জেনে নেব, ঠিক কোন ৪টি জায়গায় ধূপ বা প্রদীপ রাখা শাস্ত্রসম্মত নয়।
প্রথমত, শৌচাগারের আশেপাশে কখনোই ধূপ বা প্রদীপ জ্বালানো উচিত নয়। অনেকে বাথরুমের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য দরজার পাশে ধূপকাঠি জ্বালিয়ে রাখেন, যা অত্যন্ত ভুল অভ্যাস। বাস্তুমতে, শৌচাগার থেকে নির্গত নেতিবাচক শক্তি ধূপের পবিত্রতাকে নষ্ট করে এবং বাড়িতে অমঙ্গল ডেকে আনে।
দ্বিতীয়ত, মেঝের ওপর সরাসরি ধূপকাঠি বা প্রদীপ রাখা শাস্ত্রবিরোধী। তাড়াহুড়োর কারণে অনেকে মেঝের ওপর ধূপ গুঁজে দেন, যা ধরিত্রী দেবীকে অপমান করার শামিল। সর্বদা সঠিক স্ট্যান্ড বা ধূপদানি ব্যবহার করা উচিত। প্রদীপের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য—সরাসরি মাটিতে না রেখে একটি পিতল বা তামার প্লেটের ওপর প্রদীপ স্থাপন করা শ্রেয়।
তৃতীয়ত, পুজোর ঘটে সরাসরি ধূপ বা প্রদীপ রাখা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এটি অত্যন্ত অশুভ একটি সংকেত হিসেবে গণ্য হয়। বাস্তুশাস্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী, ঘটে এগুলি রাখলে সংসারে অশান্তি দানা বাঁধতে পারে এবং আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনাও প্রবল হয়।
চতুর্থত, কাঠের সিংহাসনের বা আসনের ছিদ্রে ধূপকাঠি গুঁজে রাখার প্রবণতা অনেক বাড়িতেই দেখা যায়। এটি বাস্তুদোষের অন্যতম বড় কারণ। সিংহাসনে প্রদীপ রাখার সময়ও নিচে একটি পরিষ্কার আসন বা ছোট প্লেট ব্যবহার করা আবশ্যক।
এই সাধারণ নিয়মগুলি মেনে চললে বাস্তুদোষ থেকে মুক্তি পাওয়া সহজ। বাড়ির পবিত্রতা বজায় রেখে পরিবারকে সুখ ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে আজ থেকেই এই সতর্কতাগুলি অবলম্বন করুন।





