রাজ্যের বালি পাচার মামলায় তৎপরতা বাড়াল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার একযোগে কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিট, নিউ আলিপুর, আলিপুর-সহ ঝাড়গ্রাম জেলায় অভিযান চালালেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে হানা
ইডি সূত্রে খবর, বালি পাচার চক্রের খোঁজে সোমবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। স্থানীয়ভাবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ‘বিলটু’ নামে পরিচিত।
অভিযোগ: অভিযোগ রয়েছে যে, ওই ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে গোপীবল্লভপুর ও লাগোয়া এলাকা জুড়ে নদীঘাট থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলা, ট্র্যাক্টরে করে পরিবহন এবং বাইরে পাচারের সঙ্গে যুক্ত। ইডি-র প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য উঠে আসার পরই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় ইডি।
তল্লাশি ও উদ্ধার
-
‘বিলটু’র বাড়ির দরজা খুলতেই গোটা চত্বরে শুরু হয় তল্লাশি।
-
বাড়ির সামনে দুটি ট্র্যাক্টর দাঁড় করানো অবস্থায় দেখা যায়, যা বালি পাচারের মূল বাহন হতে পারে বলে ইডি-র অনুমান।
-
বাড়ির ভিতরের বিভিন্ন ঘর, গুদামঘর, আলমারি এবং কাগজপত্র খুঁটিয়ে দেখা হয়।
-
বালি পাচারের যোগসূত্র প্রমাণ করতে পারে এমন নথি, ফোন, খাতা বা ডিজিটাল ডেটা উদ্ধারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
স্থানীয়দের চাঞ্চল্য
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় বালি পাচারের রমরমা চলছে। প্রশাসন ও পুলিশের চোখ এড়িয়ে কীভাবে এই পাচার চক্র এত বড় হল, তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। ইডি-র হঠাৎ অভিযানে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই তল্লাশি বৃহত্তর কোনও চক্রের পর্দা ফাঁস করতে পারে।
ইডি-র বৃহত্তর তদন্ত
রাজ্যে কয়লা ও গরু পাচার মামলায় আগেই কেন্দ্রীয় সংস্থা তদন্ত শুরু করেছিল। এখন বালি পাচারের মতো দ্রুত বেড়ে ওঠা আর্থিক অপরাধ নিয়েও ইডি কড়া পদক্ষেপ করছে। নদিয়া, বীরভূম, বাঁকুড়া ও ঝাড়গ্রাম জুড়ে ছড়িয়ে থাকা এই পাচার নেটওয়ার্কের খোঁজ করছে ইডি। কোথা থেকে চক্রটি নিয়ন্ত্রিত হয়, কারা এর পৃষ্ঠপোষক এবং পাচারের রুট কোথায়—সেই সব তথ্য উদ্ধার করাই তদন্তকারীদের উদ্দেশ্য। গোপীবল্লভপুরে সোমবারের অভিযান সেই বৃহত্তর তদন্তেরই অঙ্গ।
দিনভর তল্লাশির পর ঠিক কী কী উদ্ধার হল, সে বিষয়ে ইডি-র পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই অভিযান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।