বালি পাচারের রহস্যভেদ? ইডি অফিসে হাজিরা দিলেন ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক!

কলকাতার সল্টলেকে ইডি অফিসের সামনে বুধবার সকাল থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। বালি পাচার মামলায় দ্বিতীয়বারের সমন পেয়ে সশরীরে হাজির হলেন ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক (এডিএম) আনসার শেখ। নীল শার্ট ও ট্রাউজার্স পরা এই তরুণ অফিসারের উপস্থিতি রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে বড়সড় আলোড়ন তুলেছে।

ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন নদী থেকে অবৈধভাবে বালি পাচারের অভিযোগে ইডি দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চালাচ্ছে। এর আগে গোপীবল্লভপুর ও জামবনি এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে কোটি কোটি টাকা উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ, এই বিশাল অবৈধ র্যাকেটের পেছনে প্রশাসনিক মদত ছিল। সেই সূত্র ধরেই এবার প্রশাসনিক কর্তার দিকে আঙুল উঠল।

আনসার শেখের উত্থান অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক। মহারাষ্ট্রের এক অটোচালকের ছেলে হয়েও মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি সর্বকনিষ্ঠ আইএএস অফিসার হিসেবে নজির গড়েছিলেন। কিন্তু সেই উজ্জ্বল ভাবমূর্তি এখন বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে। ইডি আধিকারিকরা তাঁকে মূলত বালি মাইনিংয়ের অনুমোদন, পরিবহন এবং অবৈধ নেটওয়ার্কে তাঁর ভূমিকা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।

অন্যদিকে, বালি পাচারের ফলে নদী তীরবর্তী এলাকায় কৃষি জমি নষ্ট ও সরকারি রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। বিজেপির অভিযোগ, এটি তৃণমূল জমানার দুর্নীতির চরম নিদর্শন। যদিও তৃণমূলের পাল্টা দাবি, তদন্ত চলুক কিন্তু কাউকে অযথা হয়রানি করা চলবে না। এখন আনসার শেখের বয়ান রেকর্ড করে তদন্তকারীরা পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেবেন। এই ঘটনা রাজ্যের আমলাতন্ত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এক বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy