বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য! মমতার বাড়ি ঘেরাও নিয়ে তৈরি হলো নয়া বিতর্ক

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকার নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। রবিবার থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। নাবালিকার দেহ স্থানীয় একটি পুকুর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়ার পর থেকেই রাস্তা ও রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয়রা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগী নাবালিকার বাবার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, হত্যাকারীদের কোনোভাবেই রেহাই দেওয়া হবে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শনিবার নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার শিকার হতে হয়েছে পরিবারকে। অভিযোগ দায়ের করা সত্ত্বেও পুলিশ সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি এলাকাবাসীর। উল্টোদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এই নৃশংসতার পেছনে অভিযুক্তরা রাজনৈতিক মদতপুষ্ট, যার ফলে পুলিশি ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি হয়েছে। ক্ষুব্ধ জনতা তদন্ত চলাকালীন ইন্দ্রজিৎ তাঁতি (২৬) নামে এক সন্দেহভাজনকে ধরে গণধোলাই দেয়, যার ফলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আরও এক সন্দেহভাজনকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সব মিলিয়ে ৫ জুলাই বিকেল পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারুইপুরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই রবিবার দুপুর থেকেই তাঁর কালীঘাটের বাড়ি পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন থাকায় তিনি বাড়ি থেকে বেরোতে পারেননি। সোমবার সকালের দিকে এই ঘেরাও কিছুটা শিথিল হলে দোলা সেন ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল বারুইপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। কুণাল ঘোষের মতো নেতারা সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের যথাযথ কভারেজের দাবি জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে, নাবালিকার মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তারপরে প্রশাসনের ভূমিকা ও পুলিশের নিরাপত্তা বলয় নিয়ে রাজ্যজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সাধারণ মানুষ এখন দোষীদের দ্রুত শাস্তি এবং স্বচ্ছ তদন্তের অপেক্ষায়। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এই ঘটনায় আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসন কি প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করতে পারবে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।