বারুইপুরের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ‘ঐশ্বরিক বিচার’! পুলিশের গুলিতে নিকেশ পিশাচ প্রভাস মণ্ডল

বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় বুধবার মধ্যরাতে এক নাটকীয় ও চাঞ্চল্যকর মোড় এল। এই ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণ বা রিক্রিয়েশনের জন্য তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় সে পালানোর মরিয়া চেষ্টা করেছিল।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার গভীর রাতে। ১২ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় পুলিশ ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্ত প্রভাসকে নিয়ে রাত ১২টা ১০ মিনিট নাগাদ তদন্তকারীরা সেই ঘটনাস্থলে পৌঁছান, যেখানে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই সময় প্রবল বৃষ্টিতে চারপাশ ছিল অন্ধকার। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই প্রভাস মণ্ডল হঠাৎই এক পুলিশ কর্মীর সার্ভিস রিভলভার কেড়ে নেয় এবং পালানোর জন্য গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশ পাল্টা ধাওয়া করলে পরিস্থিতির উত্তাপ চরম আকার ধারণ করে। আত্মরক্ষার খাতিরে এবং অভিযুক্তকে বাগে আনতে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে দ্রুত বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই এনকাউন্টার প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “সরকার শেষ পর্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে, যা প্রমাণ করে যে অপরাধীরা আর কোনো রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় পার পাবে না।” পাশাপাশি তিনি কামদুনি কাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানান যে, কামদুনির ফাইল পুনরায় খোলা হোক। শমীক ভট্টাচার্যের অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনের গাফিলতি ও তোষণনীতির কারণে কামদুনির নির্যাতিতা সঠিক বিচার পাননি এবং অভিযুক্তরা বেকসুর খালাস পেয়েছিল।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকার এই মৃত্যুকে ‘ঐশ্বরিক বিচার’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “১২ বছরের কিশোরীর হত্যাকারী পিশাচ প্রভাস মণ্ডল মঙ্গলবার রাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পালানোর সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, অভিযুক্তের মৃত্যুতে তদন্তের গতিপ্রকৃতি আরও জটিল হয়ে উঠল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের এই ভয়াবহ ঘটনাটি গোটা রাজ্যে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। পুলিশের উপর হামলা এবং তার পাল্টা জবাবে এনকাউন্টার—এই ঘটনায় গোটা বারুইপুর জুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ওই কিশোরী খুনের ঘটনায় ধৃত বাকি তিনজনের জেরা চালিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। অপরাধীর এমন পরিণতিতে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তবে অপরাধ দমনে পুলিশের এই কড়া অবস্থানকে অনেকেই দৃষ্টান্তমূলক বলে মনে করছেন।