বারাণসীর সাধুর নির্দেশে শুরু, আজও পটের দুর্গায় পুজো! ৩শ’ বছরের এই পুজোর গল্প জানলে মুগ্ধ হবেন…

জমিদারি প্রথা নেই, কিন্তু জামুড়িয়ার ইকড়া গ্রামের চট্টোপাধ্যায় পরিবারে দেবী দুর্গা আজও পূজিত হন এক ভিন্ন রূপে। প্রায় ৩০০ বছর আগে বারাণসীর এক সাধু এই পরিবারের পূর্বপুরুষকে একটি অষ্টধাতুর অষ্টভুজা দুর্গামূর্তি দেন, যার নাম ‘বিন্ধ্যবাসিনী’। সেই সাধু নির্দেশ দিয়েছিলেন, দুর্গাপূজার সময় এই অষ্টভুজা দেবীকে পটের ছবিতে এঁকে তাঁর আরাধনা করতে হবে। সেই থেকে আজও এই ঐতিহ্য চলে আসছে।
শিল্পী আলোক চক্রবর্তীর হাতেই মায়ের রূপ
এই অনন্য পটের দুর্গা আঁকার দায়িত্ব এখন শিল্পী আলোক চক্রবর্তীর কাঁধে। পেশায় ইসিএলের কর্মী আলোক গত ৩৬ বছর ধরে এই কাজটি করে চলেছেন। মজার বিষয় হলো, তাঁর ছবি আঁকার কোনো প্রথাগত প্রশিক্ষণ নেই। তিনি বলেন, ‘মা নিজেই আমাকে দিয়ে ছবি আঁকিয়ে নেন। আমি শুধু রং-তুলি ধরে থাকি, কীভাবে মায়ের রূপ ফুটে ওঠে, তা আমি নিজেও বলতে পারি না।’
প্রতি বছর মায়ের রূপসজ্জা বদলে যায়। এবার মায়ের পোশাকে ও মুখে আদিবাসী সংস্কৃতি ও রূপের ছোঁয়া আনা হয়েছে। অ্যাক্রিলিক রঙ দিয়ে ছবিটি আঁকতে তাঁর প্রায় দু’মাস সময় লাগে। ষষ্ঠীর দিন এই পটটি মন্দিরে স্থাপন করা হয়।
প্রাচীন নিয়ম ও ঐতিহ্য
চট্টোপাধ্যায় পরিবারের এই পুজোয় এখনো পুরোনো রীতি মেনেই সব নিয়ম-কানুন পালিত হয়। এখানে ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত সব পূজার রীতি একই রকম। বিশেষ করে অষ্টমী ও নবমীর দিন পাঁঠা বলিদানের প্রথা এখনও রয়েছে। নবমীতে কয়েক হাজার মানুষের জন্য বিরাট ভোগের আয়োজন করা হয়।
পরিবারের সদস্য নির্মলেন্দু চট্টোপাধ্যায় জানান, একসময় তাঁদের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না, তাই প্রতিমা তৈরি না করে সাধুর নির্দেশ অনুযায়ী পটের ছবিতে পুজো শুরু হয়েছিল। এই উৎসব এখন শুধু একটি পারিবারিক পুজো নয়, বরং গ্রামের সব মানুষের আনন্দ আর ভালোবাসার কেন্দ্র।