নতুন নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)-এর প্রয়োগ এবং সিএএ-এর আতঙ্কে জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) নেওয়ার হিড়িক নিয়ে রাজ্য-রাজনীতি এখন অগ্নিগর্ভ। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশন (EC) এবং কলকাতা পৌরসভা (KMC)-কে তীব্র আক্রমণ করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক মজুমদার। শনিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ভোটের জন্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে কমিশনকেই এবং প্রয়োজনে দিল্লিতে বসে না থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বাংলায় আসতে হবে।
বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-দের আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গে শমীক মজুমদার নির্বাচন কমিশনকে একপ্রকার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন:
“নিরাপত্তা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। দিল্লিতে বসে থাকলে হবে না। প্রয়োজন হলে জ্ঞানেশ কুমারকে (নির্বাচন কমিশনার) এখানে আসতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে কলকাতায় আসতে হবে। বিএলওরা আক্রান্ত হচ্ছেন, আর ওরা দিল্লিতে বসে থাকবেন! নির্বাচন কমিশনকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।”
তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে বিজেপি কতটা উদ্বিগ্ন।
অন্যদিকে, সিএএ-এর আতঙ্কে কলকাতা পুরসভায় জন্ম শংসাপত্র নেওয়ার যে লম্বা লাইন পড়েছে এবং সেই ভিড় সামলাতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ক্যাম্প করার নির্দেশ নিয়েও শমীক মজুমদার কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন।
তিনি কলকাতা পুরসভার বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কটাক্ষ করে বলেন, “একদিকে মেয়র ক্যাম্প তৈরি করছেন, অন্যদিকে বাবা ভাড়া দিচ্ছেন। পশ্চিমবঙ্গ এখন বাবা ভাড়াতেই চলছে।”
এ প্রসঙ্গে তিনি পুরোনো দিনের যাত্রাপালার উদাহরণ টেনে এনে আরও বলেন:
“আমরা যাত্রা দেখেছিলাম, ‘বাবা কেন চাকর’। এখন নতুন যাত্রা আসছে, ‘শ্বশুর হল বাবা’।”
শমীক মজুমদারের কটাক্ষের নিশানায় আরও ছিল ফিরহাদ হাকিমের পুরোনো একটি মন্তব্য। পুরসভার বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি বলেন:
“চারিদিকে চলছে। বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। অনেকদিন ধরেই চলছে। এখন ক্যাম্প করে জন্মের ঠিকঠিকানা লিখে দেবেন ফিরহাদ হাকিম। উনিই ঠিক করে দেবেন। আর উনি তো আগে বলেছিলেন যে, সেদিনের বেশি দেরি নয় যেদিন ৫০ শতাংশ মানুষ উর্দুতে কথা বলবেন।“
📜 জন্ম শংসাপত্র লাইনের আসল কারণ!
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নতুন নাগরিকত্ব আইন (CAA) নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক বা ভুল ধারণার কারণে অনেকেই জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ করার জন্য কলকাতা পুরসভার কেন্দ্রীয় ভবনে ভিড় করছেন। বহু বয়স্ক মানুষ, যাঁদের কাছে পুরোনো শংসাপত্র নেই, তাঁরা নতুন করে তা পেতে ধর্মতলার অফিসে লাইন দিচ্ছেন।
এই অস্বাভাবিক ভিড় ও চাপ সামলাতেই কলকাতা পুরসভা বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করার জন্য ক্যাম্প তৈরি এবং কাজের সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।