৭৫ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে স্টার্টআপ শুরু! কিন্তু ৩০ দিনেই সব শেষ করে দিল চ্যাটজিপিটি?

লক্ষাধিক টাকার বেতনের লোভনীয় চাকরি ছেড়ে নিজস্ব স্টার্টআপ শুরু করেছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা খ্যাতি ঠাকুর। কিন্তু বাজারে নিজের প্রথম পণ্য লঞ্চ করার মাত্র ত্রিশ দিনের মাথায় এক বিশাল বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন তিনি। চ্যাটজিপিটি এবং গুগল এআই-এর অবিশ্বাস্য ও দ্রুত অগ্রগতির কারণে তাঁর তৈরি পণ্যটির প্রয়োজনীয়তা রাতারাতি ফুরিয়ে যায়। ফলে চোখের সামনেই সমস্ত গ্রাহক হাতছাড়া হয়ে যায় তাঁর।

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই যাত্রা?

ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স শেষ করে দীর্ঘদিন বড় বড় সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেছেন খ্যাতি। এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ‘ফ্রাইডে’ নামের একটি নিজস্ব এআই স্টার্টআপ শুরু করার জন্য তিনি ৭৫ লাখ টাকার মোটা বেতনের চাকরি ছেড়ে দেন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রকেটগতির সামনে তাঁর তৈরি প্রাথমিক প্রজেক্টটি টিকতে পারেনি। এক মাসের মধ্যে গ্রাহক শূন্য হয়ে পড়ার পর স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে, এরপর কী হবে?

হাল ছেড়ে না দিয়ে তিনি ব্যবসার গতিপথ বদলানোর বা পিভট করার সিদ্ধান্ত নেন। সঠিক কৌশল খুঁজে পেতে তাঁর প্রায় সাত মাস সময় লেগেছিল এবং নতুন করে পণ্যটি দাঁড় করাতে আরও নয় মাস পরিশ্রম করতে হয় তাঁকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোম্পানির হাতে অত্যন্ত সীমিত তহবিল রয়েছে এবং বিটুবি ব্যবসায় একটিমাত্র চুক্তি পাকা করতে তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। এই কঠিন সময়ে নতুন বিনিয়োগকারীদের খুঁজছেন তিনি।

চাকরি ছেড়ে বিপাকে পড়ার অভিজ্ঞতা

বাইরে থেকে একটি স্টার্টআপের পথচলা যতটা রোমাঞ্চকর মনে হয়, বাস্তবে পরিস্থিতি তার চেয়ে অনেক বেশি নির্মম। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট ডেটে অ্যাকাউন্ট বেতনের টাকা না ঢোকার শূন্যতা এবং বারবার নিজের সিদ্ধান্তের ভুল নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয় উদ্যোক্তাদের। তবে এত কিছুর পরও এই পুরো যাত্রাপথ নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই খ্যাতির। তাঁর মতে, কোনো চাকরি থেকে যা শেখা সম্ভব নয়, এই ব্যর্থতা ও লড়াইয়ের গল্প তাঁকে তার চেয়ে ঢের বেশি শিক্ষা দিয়েছে।