দেশের জাতীয় সড়কের টোল বুথগুলিতে তথাকথিত ‘ভিআইপি কালচার’-এর দাপট যেন থামছেই না। এবার কর্ণাটকের একটি টোল বুথে বিজেপি নেতা বিজুগৌড়া পাটিলের ছেলে সমর্থগৌড়া পাটিল একজন টোল কর্মীকেই মারধর করলেন। কারণ ছিল—তাঁর গাড়িতে ফাস্ট্যাগ (FASTag) না থাকায় কর্মীটি মাত্র ৫০ টাকার টোল ফি দাবি করেছিলেন। পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের কাঙ্কার জেলার কাছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-এর আওতাধীন একটি টোল বুথে।
কর্মীকে হুমকি: ‘জানো আমি কার ছেলে?’
টোল বুথের ম্যানেজার টিপ্পু আলন্দ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, টোল কর্মীটি ফি চাইতেই সমর্থগৌড়া দাম্ভিকতার সঙ্গে বলেন, “জানো আমি কার ছেলে?” এরপরই শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা, যা মুহূর্তের মধ্যে মারধরে রূপ নেয়।
ম্যানেজার আলন্দ হতাশার সঙ্গে বলেন, “আমরা কিছুই করতে পারছি না, কারণ ওরা বড় লোক। নতুন কর্মীটি জানত না বিজুগৌড়া পাটিল কে। গাড়িতে ফাস্ট্যাগ না থাকায় সে শুধু নিজের কাজটাই করছিল।”
ছেলের আচরণকে প্রকাশ্যে সমর্থন বাবার
এই ঘটনার পর আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়, যখন সমর্থগৌড়ার বাবা বিজেপি নেতা বিজুগৌড়া পাটিল প্রকাশ্যে তাঁর ছেলের আচরণকে সমর্থন করেন। এনডিটিভি-কে ফোনে তিনি বলেন, “আমার ছেলে যখন বলল এই গাড়ি বিজুগৌড়ার, তখন টোল কর্মী জিজ্ঞেস করল, ‘বিজুগৌড়া কে?’ এটা খুব অপমানজনক। স্বাভাবিকভাবেই আমার ছেলে রেগে গিয়েছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যে কেউ নিজের বাবার অসম্মান সহ্য করতে পারে না। স্টাফরাও খারাপ ব্যবহার করেছিল, তাই ঘটনাটা ঘটেছে। এতে এমন কী ভুল?”
রাজনৈতিক চাপানউতোর
বাবা-ছেলের এই আচরণে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা এবং কর্ণাটকের মন্ত্রী দিনেশ গুন্ডু রাও। তিনি এনডিটিভি-কে বলেন, “এটা স্পষ্ট ক্ষমতার অপব্যবহার। বাবা-ছেলের এই আচরণ ওদের শিক্ষার প্রতিফলন।”
এমনকি বিজেপিরই নেতা চালাভাদি নারায়ণস্বামীও এই ঘটনাকে নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, “কে কোন দলের, সেটা বিষয় নয়। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। পাটিল সাহেব ক্ষমা চেয়েছেন, কিন্তু এমন ঘটনা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।” উল্লেখ্য, বিজুগৌড়া পাটিল ২০০৮ সাল থেকে বেলেশ্বর কেন্দ্র থেকে নির্বাচন লড়লেও কখনও জিততে পারেননি।
আইনের ঊর্ধ্বে ভিআইপি?
এদিকে, টোল কর্মী মারধরের পর থেকেই সমর্থগৌড়া পাটিল পলাতক। ম্যানেজার আলন্দ জানান, তাঁরা কোনো মামলা করেননি, কারণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব NHAI-এর। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে দ্রুত সমর্থগৌড়ার গ্রেপ্তারের দাবি তুলেছেন।
দেশজুড়ে ফাস্ট্যাগ বাধ্যতামূলক হলেও ‘ভিআইপি’ সংস্কৃতির দাপটে আইন অমান্য করা হচ্ছে নির্লজ্জভাবে। এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলল—ভারতের ‘ভিআইপি কালচার’ কবে শেষ হবে? আইন কি কেবল সাধারণ মানুষের জন্যই?