বাথরুমে আধ ঘণ্টা অচৈতন্য যুবক, চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগে উত্তাল শান্তিপুর হাসপাতাল!

চিকিৎসায় চরম গাফিলতি এবং অমানবিকতার অভিযোগে আবারও কাঠগড়ায় রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবা। নদিয়ার শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে বাথরুমে দীর্ঘ সময় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকার পর এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় শুক্রবার সকালে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনায় মৃত রাজকুমার ঘোষের (৩৬) পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন।

শান্তিপুর থানার কাশ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাজকুমার ঘোষ সকালে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে অসুস্থ বোধ করেন এবং রাস্তায় পড়ে যান। পরিবারের সদস্যরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তির পর রাজকুমারের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় হলেও চিকিৎসকরা গুরুত্ব দেননি। রাজকুমার যখন বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন, তখন তিনি বেড থেকে ওঠার মতো অবস্থায় ছিলেন না।

পরিবারের দাবি, নার্স ও চিকিৎসকদের বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেননি। উল্টে তাঁদের বলা হয়, রোগীকে নিজেরাই যেন বাথরুমে নিয়ে যান। অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় রাজকুমারের শরীর থেকে স্যালাইনও খুলে দেওয়া হয়েছিল। অসহায় মা ও দিদি কোনোক্রমে তাঁকে ধরে শৌচাগারে নিয়ে যান। কিন্তু বাথরুমে ঢোকার পর সেখানেই অচৈতন্য হয়ে পড়ে যান যুবকটি।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দীর্ঘ আধ ঘণ্টা বাথরুমের মেঝেতে অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে ছিলেন রাজকুমার। বারবার হাসপাতালের কর্মী ও চিকিৎসকদের ডাকা সত্ত্বেও কেউ সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেননি। পরে পরিবারের অন্য সদস্যরা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করে বেডে নিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত যুবকের বোন পম্পা গোস্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা বারবার অনুরোধ করেছিলাম দাদাকে বেড প্যান দিতে, যাতে বাথরুমে নিয়ে যেতে না হয়। কিন্তু কেউ কথা শোনেনি। মৃত্যুর জন্য সরাসরি চিকিৎসকদের গাফিলতিই দায়ী।” এই ঘটনায় শুক্রবার সকালে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। হাসপাতাল সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে পরিবার। তবে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।