বর্জ্য থেকেও যে বিপুল অর্থ উপার্জন সম্ভব, তা আরও একবার প্রমাণ করে দিল পূর্ব রেল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে স্ক্র্যাপ বা বাতিল সরঞ্জাম নিষ্পত্তিতে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে এই জোন। সমস্ত পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিয়ে এবার ৬০০.১১ কোটি টাকার নন-ফেয়ার রাজস্ব তৈরি করেছে পূর্ব রেল। গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের তুলনায় এই আয়ের হার প্রায় ১১.৬২% বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেল সূত্রে খবর, এই বিশাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হাজার হাজার মেট্রিক টন বাতিল লোহা ও যন্ত্রপাতিকে পুনরায় অর্থনীতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। পূর্ব রেল ৪০,০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি রেল এবং পি-ওয়ে ফিটিং-এর পাশাপাশি ৬৫,০০০ মেট্রিক টন লৌহজাত বর্জ্য বিক্রি করেছে। শুধু তাই নয়, ৪১০টি পুরনো কোচ (EMU, ICF ও DEMU) এবং ৯১০টি ওয়াগন সরিয়ে সেগুলির জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তির কোচ যুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে ১৮টি ডিজেল ও ১৯টি ইলেকট্রিক লোকোমোটিভও নিলাম করা হয়েছে।
পূর্ব রেলের এই অভিযানের একটি বড় সাফল্য হল জমি উদ্ধার। প্রায় ২,০০০-এর বেশি পরিত্যক্ত সিভিল স্ট্রাকচার ভেঙে ফেলায় রেলের প্রচুর মূল্যবান জায়গা এখন দখলমুক্ত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহৃত হবে। পূর্ব রেলের প্রধান মুখ্য মেটেরিয়াল ম্যানেজার সন্দীপ শুক্লা জানিয়েছেন, এই স্ক্র্যাপ নিষ্পত্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন বিপুল রাজস্ব আসছে, অন্যদিকে রেল চত্বর পরিষ্কার ও জঞ্জালমুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে। এমনকি সংগৃহীত স্ক্র্যাপের একটি বড় অংশ রেলের নিজস্ব হুইল প্ল্যান্টে কাঁচামাল হিসেবে পাঠিয়ে খরচও সাশ্রয় করা হচ্ছে।





