বাড়ি বাড়ি জনগণনার আগেই বড় ধাক্কা! সামনে এল কেন্দ্রের ৪০টি চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন, দিতে হবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও পাসপোর্টের তথ্যও!

দেশজুড়ে শুরু হতে চলেছে ডিজিটাল জনগণনার প্রক্রিয়া। তার আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ করল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফায় শুরু হতে চলা এই মেগা জনগণনার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০টি প্রশ্নের একটি দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত এই নতুন নির্দেশিকা ও প্রশ্নমালা ঘিরে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল এবং রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১১ সালের জনগণনার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে এবার আরও ১৩টি নতুন প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিগত আদমশুমারির ২৯টি প্রশ্নের পাশাপাশি এবার যুক্ত হয়েছে মোট ১৩টি নতুন ও তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য। এবারের জনগণনায় প্রতিটি নাগরিকের কাছে তাঁদের জীবনসঙ্গীর নাম, নাগরিকত্ব, বাবা-মায়ের বিশদ তথ্য, ডিজিটাল সাক্ষরতা, স্থায়ী ঠিকানা, কোভিড-১৯ টিকাকেন্দ্রের নাম, মোট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, পাসপোর্টের নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোবাইল নম্বর, এবং আধার ও ভোটার কার্ডের নম্বর চাওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৯ সালে জাতীয় জনসংখ্যা পঞ্জি বা এনপিআর (NPR)-এর রিহার্সালের সময় যে সমস্ত প্রশ্ন সামনে আনা হয়েছিল, এবারের আদমশুমারির অনেক প্রশ্নের সঙ্গে তারই মিল রয়েছে। সে সময় প্রথম দফার জনগণনার সঙ্গেই এনপিআর সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও বিরোধীদের তীব্র আপত্তি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিবাদের মুখে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল কেন্দ্র। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ ছিল, সংগৃহীত এই সমস্ত তথ্য ভবিষ্যতে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি বা এনআরসি (NRC)-র প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করা হতে পারে।
কেন্দ্রের তরফে প্রকাশিত এই ৪০টি প্রশ্নের তালিকায় নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিচয় থেকে শুরু করে আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা সংক্রান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিষয়গুলি স্থান পেয়েছে। প্রশ্নগুলির মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম, পরিবারের প্রধানের সঙ্গে সম্পর্ক, লিঙ্গ পরিচয়, জন্মসাল ও বয়স, বৈবাহিক স্থিতি, বিয়ের বয়স, জীবনসঙ্গীর নাম, নাগরিকত্ব, ধর্মবিশ্বাস এবং জাতিগত পরিচয়। পাশাপাশি বাবা ও মায়ের জন্মস্থান, নাগরিকত্ব এবং বয়সের তথ্যও বাধ্যতামূলকভাবে জানাতে হবে।
এ ছাড়াও শিক্ষাগত যোগ্যতা, ডিজিটাল সাক্ষরতা, পেশা, অর্থনৈতিক কার্যকলাপ, যাতায়াতের মাধ্যম, জন্মস্থান, পূর্ববর্তী ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানায় বসবাসের সময়কাল এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি সন্তান সংক্রান্ত তথ্য, কোভিড টিকাকেন্দ্রের বিশদ বিবরণ, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, মোবাইল নম্বর, আধার ও ভোটার কার্ডের বিবরণ এবং পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো সংবেদনশীল তথ্যগুলিও এই ৪০টি প্রশ্নের অর্ন্তগত করা হয়েছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে চলা এই ঐতিহাসিক জনগণনার প্রক্রিয়া কীভাবে রূপায়িত হয়, এখন সেটাই দেখার।