বাড়ি বাড়ি ঘুরেই বিপাকে সরকারি কর্মীরা! জানেন কেন রাজ্যজুড়ে থমকে যাচ্ছে জনগণনার কাজ?

রাজ্যজুড়ে বর্তমানে জোরকদমে চলছে বহু প্রতীক্ষিত জনগণনার দ্বিতীয় ধাপ তথা ‘গৃহগণনা’। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত জনসচেতনতার তীব্র অভাবের কারণে বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনে গিয়ে রীতিমতো চরম বিপাকে পড়েছেন সরকারি গণনাকারী তথা এনুমারেটর, সুপারভাইজার এবং ইনচার্জ অফিসাররা। রাজ্যের একটা বিরাট অংশের মানুষ এখনও জনগণনার সঠিক প্রক্রিয়া ও এর গুরুত্ব সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন। যার ফলে বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের সময় তাঁদের নিত্যদিন নানাবিধ বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে এবং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কাজের স্বাভাবিক গতি।

মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে এনুমারেটরদের প্রধান অভিযোগ, সচেতনতার এই চরম অভাবেই তাঁদের কাজ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তড়িঘড়ি নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। পরিস্থিতি সামাল দিতে কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক ব্লকে অবিলম্বে শুরু হয়েছে জোরদার প্রচারমূলক কাজকর্ম। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে হোর্ডিং লাগানোর পাশাপাশি চলছে মাইকে লাগাতার প্রচার। এমনকি এই বিশেষ প্রচার কার্যক্রমে পুরসভা এবং পঞ্চায়েতের কর্মীদেরও সক্রিয়ভাবে নামানো হয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর মিলেছে।

সরকারি আধিকারিকদের একাংশের সুনির্দিষ্ট মত, কাউন্সিলর ও পঞ্চায়েত সদস্যদের মতো তৃণমূল স্তরের জনপ্রতিনিধিরা এই গুরুত্বপূর্ণ জনগণনার কাজে এতদিন সেভাবে এগিয়ে আসেননি বা উৎসাহ দেখাননি। আর সেই কারণেই সাধারণ মানুষের মনেও এই প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অসহযোগিতার ফলেই সাধারণ মানুষ গণনাকারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পিছপা হচ্ছেন। রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কলকাতার মতো একাধিক পুরসভায় বোর্ড ভেঙে যাওয়ায় সেখানে নির্দিষ্ট কোনো কাউন্সিলর নেই। আবার যেসব এলাকায় বোর্ড বহাল রয়েছে, সেখানকার অনেক জনপ্রতিনিধিও এই প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করছেন না। দলবদলু এবং নিষ্ক্রিয় জনপ্রতিনিধিদের এই উদাসীনতার মাশুল গুনতে হচ্ছে সাধারণ সরকারি কর্মীদের।

এদিকে এই পরিস্থিতি নিয়ে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দল বিজেপি। তাদের জোরালো দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই বহু জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি হয় অফিসমুখী হচ্ছেন না, নতুবা এলাকাছাড়া অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বর্তমানে রাজ্যের অধিকাংশ পুরবোর্ড তৃণমূলের দখলে থাকলেও অনেক জায়গায় বোর্ড পুনর্গঠনের কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তারা কাজকর্ম গুছিয়ে উঠতে পারেনি। বিশেষ করে হাওড়া ও কলকাতা কর্পোরেশন এলাকায় কাউন্সিলর না থাকায় বাড়ি বাড়ি ঘুরেও কোনো সহযোগিতা পাচ্ছেন না সরকারি প্রতিনিধিরা। কর্মীদের একাঞ্চলের দাবি, অবিলম্বে জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়া হোক, তবেই জটিলতা কাটবে।

এক পুরসভার শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, অতীতে ‘দুয়ারে সরকার’ বা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের’ মতো জনপ্রিয় প্রকল্পে স্থানীয় কাউন্সিলরদের কাছ থেকে যথেষ্ট সাহায্য মিলত। কিন্তু বর্তমান কাউন্সিলরহীন ও প্রচারহীন এলাকায় সেই সহযোগিতা না থাকায় সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ অজ্ঞ রয়ে গেছেন।