ঘণ্টার বদলে মন্দিরে ঝোলে তালা! প্রয়াগরাজের এই অদ্ভুত ঐতিহ্য জানলে চমকে উঠবেন

সাধারণত যেকোনো শিবমন্দিরে প্রবেশ করলেই কানে আসে ঘণ্টার পবিত্র ধ্বনি। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের ঐতিহাসিক শ্রী নাথেশ্বর মহাদেব মন্দিরে গেলে আপনার চোখে পড়বে এক সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। এখানে ঘণ্টার টুংটাং শব্দের পরিবর্তে দূরদূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা মন্দিরের রেলিং ও রডে ঝুলিয়ে দেন হাজার হাজার তালা। এই অনন্য ও অভিনব রীতির জন্যই স্থানীয় মানুষের কাছে এই মন্দিরটি অত্যন্ত ভালোবেসে ‘তালে ওয়ালে মহাদেব’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে।
স্থানীয় ভক্তদের সুদৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, এই মন্দিরে এসে মনস্কামনা জানিয়ে তালা ঝোলালে তা দ্রুত পূরণ হয়। মানত করার নিয়মটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক—ভক্তরা একটি নতুন তালা কিনে মন্দিরে নিয়ে আসেন এবং নিজেদের গোপন ইচ্ছেটিকে সেখানে ‘লক’ করে ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে যখন তাঁদের সেই মনস্কামনা পূরণ হয়, তখন তাঁরা পুনরায় মন্দিরে ফিরে আসেন এবং সেই তালা ‘আনলক’ করে বাড়ি খুলে নিয়ে যান। মন্দিরের প্রধান মহন্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই মন্দিরে প্রায় ৫০,০০০-এরও বেশি তালা ঝুলছে। শুধু তাই নয়, প্রতিদিন নিয়ম করে এখানে নতুন ১০০ থেকে ১৫০টি করে তালা যোগ হচ্ছে।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, প্রায় ৫০০ বছর পুরনো এই মন্দিরটি মুঘল আমলের তৈরি বলে অনুমান করা হয়। এর প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর গায়ে এখনও পুরোনো পাথরের টুকরো দেখতে পাওয়া যায়, যার মধ্যে কিছু পাথরে আরবি লিপির চিহ্নও স্পষ্ট রয়েছে। মন্দিরটি মাটির প্রায় ৫ ফুট গভীরে অবস্থিত এবং এটি উত্তর ভারতের চিরাচরিত স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন। প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র প্রয়াগরাজেই নয়, এর পাশাপাশি কানপুরের বিখ্যাত কালী মাতা মন্দিরেও ঘণ্টার পরিবর্তে তালা ঝুলিয়ে মানত করার এই প্রথা প্রচলিত রয়েছে।