বাড়ির বড়দের FD আছে? মৃত্যুর পর সেই টাকা পাওয়ার আসল নিয়ম কী?

ভারতীয় পরিবারগুলোতে ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি (FD) কেবল একটি বিনিয়োগ নয়, এটি প্রবীণদের কাছে এক পরম নির্ভরযোগ্য সম্পদ। দাদু-ঠাকুমারা ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক সঞ্চয় এফডিতে রাখেন। কিন্তু সমস্যা বাঁধে তখন, যখন তাঁদের আকস্মিক প্রয়াণের পর পরিবার সেই জমানো টাকা দাবি করতে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়ে। নমিনি না থাকলে বা উইল না করা থাকলে সেই টাকা পাওয়ার উপায় কী?
আইন কী বলছে?
যদি মৃত ব্যক্তি হিন্দু হন, তবে এক্ষেত্রে ১৯৫৬ সালের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন প্রযোজ্য হয়। এই আইন অনুসারে, মৃত ব্যক্তির প্রথম শ্রেণির উত্তরাধিকারী— অর্থাৎ স্ত্রী, পুত্র, কন্যা এবং মা, সম্পত্তির সমান অংশীদার। এমনকি যদি কোনো পুত্র বা কন্যা আগেই মারা গিয়ে থাকেন, তবে তাঁদের সন্তান বা নাতি-নাতনিরাও ওই সম্পত্তিতে সমান অধিকার পাবেন।
নমিনি কি ফান্ডের মালিক?
অনেকেরই ধারণা, নমিনি থাকা মানেই তিনি ওই টাকার মালিক। কিন্তু আইনি পরিভাষায় নমিনি হলেন একজন ‘ট্রাস্টি’। তাঁর কাজ হলো মৃত ব্যক্তির আমানত ব্যাঙ্ক থেকে সংগ্রহ করে সমস্ত বৈধ উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সঠিক ভাগে বিতরণ করা। ব্যাঙ্ক সাধারণত নমিনির কাছ থেকে ডেথ সার্টিফিকেট, কেওয়াইসি (KYC) এবং ক্ষতিপূরণ বন্ডের মতো নথিপত্র চেয়ে থাকে।
নমিনি না থাকলে করণীয় কী?
যদি এফডি-তে কোনো নমিনি না থাকে, তবে চিন্তা করার কারণ নেই। এক্ষেত্রে সরাসরি আইনসম্মত উত্তরাধিকারীরা (Legal Heirs) ব্যাঙ্কের কাছে দাবি জানাতে পারেন। যদিও প্রক্রিয়াটি কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। কী কী লাগবে?
মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট।
সাকসেশন সার্টিফিকেট বা লিগ্যাল হেয়ার সার্টিফিকেট।
সকল উত্তরাধিকারীর কেওয়াইসি (KYC) নথি।
ব্যাঙ্ক নির্ধারিত এফিডেবিট ও অন্যান্য কাগজপত্র।
প্রয়োজনীয় টিপস: এফডি করার সময় সবসময় একাধিক নমিনি বা জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট করার চেষ্টা করুন। এতে পরবর্তীকালে উত্তরাধিকারীদের হয়রানি অনেকটাই কমে।