পকেটে ছ্যাঁকা! দ্বিগুণেরও বেশি দামি পেঁয়াজ-চিনি, আগস্টেই তুঙ্গে খুচরা মূল্যস্ফীতি

বাজার থেকে থলি হাতে ফের খালি পকেটে ফিরতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শাকসবজি থেকে শুরু করে রান্নার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র—সবকিছুর দামই এখন উর্ধমুখী। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসের ৪.৪৫ শতাংশ থেকে এক লাফে বেড়ে আগস্টে দেশের খুচরা মূল্যস্ফীতি পৌঁছে গেছে ৪.৮২ শতাংশে। বছরের প্রথম ভাগে বাজার দর কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আগস্টে এসে তা আমজনতার কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর করেছে।

রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের অনুমান ছিল মূল্যস্ফীতি ৪.৮০ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে, যা প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে বাস্তব চিত্র।

সংবাদের ৫টি মূল হাইলাইটস:

  • মূল্যস্ফীতির লাফ: জুলাইয়ের ৪.৪৫% থেকে বেড়ে আগস্টে খুচরা মূল্যস্ফীতি হলো ৪.৮২%।

  • খাদ্যপণ্যে অস্বস্তি: খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫.৫২% থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৯৫%-এ।

  • পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দর: আগস্টে পেঁয়াজের মূল্যস্ফীতি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৪৮.২৭ শতাংশ স্পর্শ করেছে।

  • শহরে চাপ বেশি: গ্রামীণ এলাকায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫.৬৪% হলেও শহরাঞ্চলে তা পৌঁছেছে ৬.১৩%-এ।

  • টমেটো ও আলুতে কিছুটা স্বস্তি: পেঁয়াজ-রসুন কাঁদালেও টমেটো ও আলুর দামে মিলিছে সামান্য রেহাই।

কোন পণ্যের দামে আগুন আর কোথায় মিলল স্বস্তি?

মূলত পেঁয়াজ, রসুন ও চিনির আকাশছোঁয়া দামই আগস্টে মূল্যস্ফীতি বাড়াতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার চিনির রপ্তানিতে যে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল, তা সেপ্টেম্বরের শেষ পর্যন্ত জারি রয়েছে। অন্যদিকে রসুনের মূল্যস্ফীতি ৩৫.৩৬% থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩.৬০%-এ।

পণ্যের নামজুলাই মাসের স্থিতিআগস্ট মাসের স্থিতি
পেঁয়াজ২২.৫৪%৪৮.২৭% (দ্বিগুণের বেশি)
রসুন৩৫.৩৬%৪৩.৬০%
আদা৮৩.৫৭%৭৩.৮২% (সামান্য হ্রাস)
টমেটো-৪.৬০%-৩১.০৯% (দাম কমেছে)
আলু-১৬.৫৬%-১৩.১৪% (নিয়ন্ত্রণে)

ভবিষ্যতে কেমন থাকবে বাজারের হাল?

বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি থামবে কিনা তা অনেকটাই নির্ভর করছে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর গতিপ্রকৃতি ও ফসল উৎপাদনের ওপর। সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে শীতকালীন ফসলের ফলন ভালো হবে এবং খাদ্যপণ্যের যোগান বাড়লে মধ্যবিত্তের পকেটে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে।