সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর আগ্রাসী মনোভাবের মোক্ষম জবাব দিতে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বিশাল ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সেনাবাহিনীকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে এবার বরাদ্দ করা হয়েছে ৭.৮ লক্ষ কোটি টাকা। গত বছর এই বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৬.৮১ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বাড়িয়ে ভারত সরকার স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল—জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো রকম আপস করা হবে না।
আধুনিকীকরণে রেকর্ড বিনিয়োগ: এবারের বাজেটে সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকীকরণের (Capital Outlay) জন্য ২.১৯ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২১.৮৪ শতাংশ বেশি। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হবে অত্যাধুনিক রাফাল যুদ্ধবিমান, ঘাতক সাবমেরিন, মিসাইল সিস্টেম এবং চালকহীন ড্রোন (UAV) কেনার পেছনে। বিশেষ করে আধুনিক যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বদলে দিতে ড্রোন প্রযুক্তিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ভারত মহাসাগরে চীনের খবরদারি রুখতে নৌবাহিনীর শক্তিবৃদ্ধি এবং আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে বায়ুসেনার জন্য নতুন স্কোয়াড্রন গড়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে এই বাজেটে।
পেনশন ও পরিকাঠামোয় জোর: বাজেটে ডিফেন্স পেনশনের জন্য ১.৭১ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যা গতবারের চেয়ে ৬.৫৩ শতাংশ বেশি। এর ফলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মীরা লাভবান হবেন। অন্যদিকে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের অসামরিক (Civil) বাজেটে সামান্য ০.৪৫ শতাংশ ছাঁটাই করা হলেও, সেনাবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় রেভিনিউ বাজেটে ১৭.২৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে সীমান্তে মোতায়েন থাকা সৈন্যদের রসদ, গোলাবারুদ এবং প্রশিক্ষণে কোনো খামতি থাকবে না।
চ্যালেঞ্জ যখন চীন: প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চীনের সামরিক বাজেট ভারতের তুলনায় চারগুণ বেশি হলেও, ভারত যেভাবে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকীকরণে বিনিয়োগ করছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এলএসি (LAC) এবং এলওসি-তে (LOC) নজরদারি বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রাডার প্রযুক্তিতে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর সেক্টরে ৪০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদনকেও (Make in India) ত্বরান্বিত করবে। সব মিলিয়ে, ২০২৬-এর বাজেট ভারতকে সামরিক দিক থেকে আরও স্বাবলম্বী এবং শক্তিশালী করে তোলার এক বলিষ্ঠ রোডম্যাপ।