বাজেট নিয়ে ধুন্ধুমার! কর্মসংস্থান ও সংখ্যালঘু বরাদ্দ নিয়ে বিরোধীদের তোপে রাজ্য সরকার

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সদ্য ঘোষিত বাজেটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বাজেটে সংখ্যালঘু উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বাজেট নিয়ে সরব হয়েছেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এবং বিধায়ক মদন মিত্রও।

হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ: আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর সরাসরি বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর স্লোগান এখানে কোথায়? তিনি বলেন, “বিরোধী দলের সদস্য বলে অন্ধ বিরোধিতা নয়, বরং জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কিন্তু যদি সমাজের নির্দিষ্ট কোনো অংশকে বঞ্চিত করা হয়, তবে তার প্রতিবাদ বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে চলবে।”

নওশাদ সিদ্দিকী ও অন্যান্যদের প্রতিক্রিয়া: সংখ্যালঘু খাতে বরাদ্দ কমানোর সমালোচনা করে ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী এটিকে ‘উন্নয়ন’ বলে চালানোর সরকারি প্রচেষ্টাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তাঁর মতে, এটি সরাসরি একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে অবহেলার সামিল। অন্যদিকে, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিধায়ক মদন মিত্রও।

মূল বিবাদের জায়গা:

  • সংখ্যালঘু বরাদ্দ: বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ, বিগত সময়ের তুলনায় সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • কর্মসংস্থান ও শিল্প: বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন শিল্পায়নের জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে দাবি করছেন বিরোধী বিধায়করা।

রাজ্য সরকারের এই বাজেটকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে এখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। শাসকদল এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী সাফাই দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।