বাজেটে বড় চমক! সরকারি কর্মীদের ডিএ ২০ শতাংশ বৃদ্ধি, বেকারদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকার ভাতা

সোমবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য রাজ্যের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। ৪.৩৮ লক্ষ কোটি টাকার এই বাজেটে জনকল্যাণ, পরিকাঠামো এবং কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে বেকার যুবক, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই অর্থমন্ত্রী বড় ঘোষণা করেছেন।

বাজেটের অন্যতম আকর্ষণ সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ বা মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি। ১ অক্টোবর থেকে ডিএ ২০ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৩৮ শতাংশ করা হয়েছে। যদিও কেন্দ্রের সঙ্গে এখনও ২২ শতাংশ ব্যবধান বজায় রইল। সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ, হোমগার্ড, এনভিএফ এবং আশাকর্মীদের মাসিক সাম্মানিক ২,০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্যারা টিচারদের সাম্মানিক বাড়ছে ৫,০০০ টাকা। এছাড়া, ২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সী স্নাতক শিক্ষিত বেকারদের মাসে ৩,০০০ টাকা ভাতা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক, বিধবা ও বিশেষভাবে সক্ষমদের ভাতার পরিমাণ ৫০০ টাকা বেড়েছে এবং অন্নপূর্ণা যোজনায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

শিক্ষাক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়েছে। মোট ১ লক্ষ শূন্যপদের মধ্যে ৫০ হাজার পদই স্কুলের শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের জন্য। মিড-ডে মিলে মাথাপিছু বরাদ্দ ১০ টাকা করা হয়েছে এবং খাবার প্রস্তুতির মান উন্নয়নে ইস্কন-এর সহায়তা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যখাতে পরিকাঠামোর ওপর জোর দিয়ে আয়ুষ্মান ভারত খাতে ৩,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। হাসপাতালের রোগীদের দৈনিক খাবারের খরচ বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা।

শিল্পায়নের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার ‘তোলাবাজি’ ও ‘সিন্ডিকেট রাজ’ রুখতে কঠোর আইন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিল্প সংস্থাগুলিকে ইনসেনটিভ দেওয়ার জন্য ৫,০০০ কোটি টাকার তহবিল গড়া হবে। প্রশাসনিক ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে রাজ্যে নতুন ৫টি জেলা (কলকাতা বাদে আরামবাগ, সুন্দরবন, বসিরহাট ও জঙ্গিপুর) এবং ৯টি নতুন পুরসভা গঠনের ঘোষণা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিয়ে শিলিগুড়িতে মেট্রো রেল, আইআইটি, আইআইএম এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম গড়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। চা শ্রমিকদের জন্য নতুন বোর্ড গঠনসহ উত্তরবঙ্গের জন্য মোট ১,৮২১ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে, যা আগের অন্তর্বর্তী বাজেটের দ্বিগুণ।

অর্থের সংস্থান প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, অতীতে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বর্জন করার নীতি থেকে সরে এসেছে বর্তমান সরকার। এবার প্রতিটি দপ্তরে কেন্দ্রীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, ফলে প্রকল্পের ৫০ শতাংশ খরচ কেন্দ্র বহন করবে এবং রাজ্যের নিজস্ব খরচ কমবে। তবে বেশ কিছু ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। কৃষি, খাদ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ৫,৭১৩ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২,১৬৫ কোটির কিছু বেশি করা হয়েছে। জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে এবার ‘সর্বজনীন’ না রেখে ‘প্রয়োজনভিত্তিক’ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।