বাজার কাঁপাতে এল ওলার নতুন ‘S1Z’! দেশীয় প্রযুক্তির শক্তিশালী ব্যাটারিতে কী চমক দিল ভাবিশ আগরওয়াল?

ইলেকট্রিক ভেহিকেল বাজারে বড় চমক দিয়ে শুক্রবার ওলা ইলেকট্রিক মোবিলিটি আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ করল তাদের নতুন এবং অত্যন্ত প্রতীক্ষিত ইলেকট্রিক স্কুটার ‘S1Z’। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর ভাবিশ আগরওয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ‘X’-এ এই অভিনব ঘোষণা করেন। তাঁর এই ঘোষণার পরেই দেশজুড়ে অটোমোবাইলপ্রেমী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। এই স্কুটারের সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এতে ব্যবহৃত কোম্পানির সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি সেল। সাশ্রয়ী মূল্যে দুর্দান্ত রেঞ্জ এবং আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তৈরি এই স্কুটারটি ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ওলার এই নতুন S1Z স্কুটারটি দুটি আলাদা ভ্যারিয়েন্টে বাজারে আনা হয়েছে। প্রথম মডেলে রয়েছে ৩.১ kWh ব্যাটারি প্যাক, যা একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে প্রায় ১৭৯ কিলোমিটার পর্যন্ত (IDC রেঞ্জ) পথ চলতে সক্ষম। এই এন্ট্রি-লেভেল মডেলটির প্রাথমিক দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৭৯,৯৯৯ টাকা। অন্যদিকে, এর উন্নত সংস্করণ S1Z Plus মডেলে রয়েছে শক্তিশালী ৫.১ kWh ব্যাটারি, যা এক চার্জে তাক লাগানো ৩০১ কিলোমিটার পর্যন্ত দুর্দান্ত রেঞ্জ প্রদান করবে। এই প্রিমিয়াম প্লাস মডেলটির দাম ধার্য করা হয়েছে ৯৯,৯৯৯ টাকা। দুটি মডেলেরই সর্বোচ্চ গতি প্রতি ঘণ্টায় ৭০ কিমি এবং উভয় ভ্যারিয়েন্টেই ৪ kW পিক মোটর ও ওলার নিজস্ব পেটেন্টপ্রাপ্ত LFP সেল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে গ্রাহকদের এই স্কুটার হাতে পাওয়ার জন্য আগামী বছরের শেষ পর্যন্ত অর্থাৎ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর এবং ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ভাবিশ আগরওয়াল এই লঞ্চ প্রসঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান যে, সাধারণ বাজারে সস্তার স্কুটার মানেই কম রেঞ্জ এবং অনুন্নত প্রযুক্তি বোঝানো হয়, কিন্তু ওলা সেই প্রচলিত ধারণাকে বদলে দিয়েছে। তারা নিজেদের তৈরি সেল, মোটর, ভেহিকেল আর্কিটেকচার এবং সফটওয়্যার সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে ফুটিয়ে তুলেছে। ওলার এই নতুন স্কুটারের অন্যতম মূল আকর্ষণ হলো তাদের গিগাফ্যাক্টরিতে তৈরি সম্পূর্ণ দেশীয় ‘ভারত সেল’। এই ব্যাটারি প্রযুক্তি তৈরিতে কোম্পানির রয়েছে ৪২৬টি এক্সক্লুসিভ পেটেন্ট। ওলার দাবি অনুযায়ী, এই আধুনিক LFP ব্যাটারির লাইফস্প্যান বা আয়ু ১৫ বছরেরও বেশি এবং এটি চরম প্রতিকূল আবহাওয়া যেমন মাইনাস ৩০ ডিগ্রি থেকে শুরু করে প্লাস ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে সম্পূর্ণ সক্ষম।

কম দামে উন্নত প্রযুক্তি এবং আকর্ষণীয় ফিচার প্রদানের জন্য এই স্কুটারে যুক্ত করা হয়েছে লেটেস্ট MoveOS 5 অপারেটিং সিস্টেম। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা ওভার-দ্য-এয়ার (OTA) আপডেট, অ্যাডভান্সড জিপিএস ট্র্যাকিং, রিয়েল-টাইম রাইড স্ট্যাটিস্টিক্স এবং ডেডিকেটেড ওলা অ্যাপের সাহায্যে জিও-ফেন্সিং ও টাইম-ফেন্সিংয়ের মতো আধুনিক সিকিউরিটি সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। ওলার এই আক্রমণাত্মক মূল্য নীতি এবং দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা ভারতীয় ইভি বাজারে তাদের আধিপত্যকে আরও বেশি শক্তিশালী করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এদিকে, এই বড় ঘোষণার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে শেয়ার বাজারেও; খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে ওলা ইলেকট্রিক মোবিলিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৯.১০ টাকায় পৌঁছায়।