জলবায়ুর চরম পরিবর্তন নাকি অন্য কিছু? হিমালয়ের বুক চিরে নেমে আসা প্রলয়ঙ্করী বন্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে!

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জলপ্রলয় এবং আকস্মিক বন্যার আসল কারণ হিসেবে প্রাথমিক তদন্তে একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়াকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই মর্মান্তিক বিপর্যয়ে ইতিমধ্যেই ৪৭৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। শুরুতে ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধস হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) এবং আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি সাধারণ কোনো ভূমিধস ছিল না, বরং আস্ত একটি হিমবাহ ধসে পড়ার ফলেই এই অভূতপূর্ব বিপর্যয় নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ধসে পড়া হিমবাহটি যখন উপত্যকার তলদেশে সজোরে আছড়ে পড়ে, তখন তার অভিঘাত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান কম্পন হিসেবে রেকর্ড করা হয়। ডান্ডি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ ড. সাইমন কুক বিবিসিকে জানান, লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের কাছে হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে উত্তর-পশ্চিম দিকে ধসে পড়ে এবং পরবর্তীতে তীব্র জলের স্রোতের সঙ্গে পশ্চিমের দিকে নেমে আসে। আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিআইএমওডি (ICIMOD)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওপর থেকে বরফ ও পাথরের বিশাল অংশ আচমকা ধ্বসে পড়ে ভোতেকোশী নদীর শাখা নদী লেন্দে খোলায় এসে পড়ে। এর ফলে নদীর জলস্তর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে ৭ থেকে ৯ মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় এবং মুহূর্তের মধ্যে সমস্ত জলপাই ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ সায়েন্সেসের অধ্যাপক মাইক সার্লের মতে, হিমালয়ের দীর্ঘমেয়াদী টেকটোনিক গতিবিধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার জেরে এই ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে। হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলি ২০০০ সালের তুলনায় বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ হারে বরফ হারাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরেই সতর্ক করে আসছেন যে, পারমাফ্রস্ট অর্থাৎ শত শত বছর ধরে জমাট বাঁধা মাটি উষ্ণতার কারণে গলে যাওয়ায় পাহাড়ের ঢালগুলি অত্যন্ত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। এর ফলে চামোলির মতো ভয়াবহ বিপর্যয় বা নেপালের এই বর্তমান জলপ্রলয় আগামী দিনে আরও বড় ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।