নোটবন্দির স্মৃতি এখনও টাটকা দেশের আমজনতার মনে। কোন দিন কোন নোট বাতিল হয়ে যাবে বা কোন নতুন নোট চালু হবে—এই আশঙ্কা রয়ে গিয়েছে বহু মানুষের মধ্যেই। সম্প্রতি ফের একবার গুজব ছড়িয়ে পড়ে, এবার নাকি বাজারে আসতে চলেছে ৫০ টাকার কয়েন! এই খবরে অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিলেন—আবার নতুন ধাক্কা না আসে! তবে সব জল্পনায় জল ঢেলে কেন্দ্র বুধবার স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এমন কোনও পরিকল্পনা নেই। ৫০ টাকার কোনও কয়েন বাজারে আসছে না।
এই জল্পনার পেছনে রয়েছে দিল্লি হাই কোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL)। মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, বাজারে ১, ২, ৫, ১০ এবং ২০ টাকার কয়েন থাকলেও ৫০ টাকার কোনও কয়েন নেই। বিশেষত দৃষ্টিহীন নাগরিকদের সুবিধার্থে ৫০ টাকার কয়েন চালু করা হোক—এই মর্মে আবেদন জানানো হয় আদালতে।
মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্র আদালতে হলফনামা দিয়ে জানায়, ৫০ টাকার কয়েন চালুর কোনও পরিকল্পনা নেই। কারণ ২০২২ সালে একটি কেন্দ্রীয় সমীক্ষায় উঠে এসেছিল, ভারী ওজনের কয়েনের চেয়ে হালকা ও সহজে বহনযোগ্য নোটই বেশি পছন্দ করেন সাধারণ মানুষ। সেই সমীক্ষার সুপারিশ অনুযায়ীই ৫০ টাকার কয়েন চালুর প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছে।
জনস্বার্থ মামলাকারীদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, বেশিরভাগ নোটেই দৃষ্টিহীনদের জন্য স্পর্শযোগ্য চিহ্ন থাকে, যা ছুঁয়ে বুঝে নেওয়া সম্ভব। কিন্তু ৫০ টাকার নোটে তেমন কোনও বৈশিষ্ট্য নেই, যা একজন দৃষ্টিহীন মানুষ সহজে শনাক্ত করতে পারবেন। তাই ৫০ টাকার নোটের বিকল্প হিসেবে একটি বিশেষভাবে ডিজাইন করা কয়েন আনার দাবি জানানো হয়েছিল।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য, নোট ও কয়েনের নকশা তৈরি এবং প্রচলন নিয়ে একাধিক দিক বিবেচনা করতে হয়—জনসাধারণের সুবিধা, অর্থনীতির ভারসাম্য, উৎপাদন খরচ, এবং ব্যবহারিক জটিলতা। সেইসব বিষয় মাথায় রেখেই এই প্রস্তাব আপাতত গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানানো হয়েছে।
যাঁরা ভাবছিলেন আবার কোনও নোট বা কয়েন নিয়ে নতুন ঘোষণা আসছে, তাঁদের জন্য স্বস্তির খবর—৫০ টাকার কয়েন চালুর কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এখনই এই ধরনের কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে ভবিষ্যতে যদি প্রয়োজন হয় বা প্রযুক্তি ও নকশায় পরিবর্তন আনা যায়, তখন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।





