বাঙালি কি তবে নিজের শহরেই সংখ্যালঘু? খসড়া তালিকায় চাঞ্চল্যকর তথ্য, কলকাতা ছাড়ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ

তিলোত্তমা তকমা থাকলেও কলকাতা থেকে কি ক্রমে মুছে যাচ্ছে বাঙালির অস্তিত্ব? নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এই প্রশ্নই এখন ঝড়ের মতো আছড়ে পড়ছে রাজনৈতিক মহলে। যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা স্রেফ সংখ্যা নয়, বরং কলকাতার জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তনের এক অশনি সংকেত।
পরিসংখ্যান কী বলছে? নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, গোটা রাজ্যে গড়ে ২.৬ শতাংশ ভোটার পাকাপাকিভাবে স্থানান্তরিত হয়েছেন। কিন্তু কলকাতার ক্ষেত্রে এই চিত্রটা ভয়াবহ! কলকাতায় ভোটার স্থানান্তরের হার প্রায় ৮.৫ শতাংশ। অর্থাৎ, রাজ্যের গড়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষ কলকাতা ছাড়ছেন।
বাঙালিরা কি তবে ব্রাত্য হচ্ছে তিলোত্তমায়? কমিশন সূত্রে জানা যাচ্ছে, খসড়া ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়ার হার সবথেকে বেশি কলকাতার কেন্দ্রগুলিতে (যেমন চৌরঙ্গী, বালিগঞ্জ বা জোড়াসাঁকো)। বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতা ছেড়ে মানুষ মূলত দুই জায়গায় যাচ্ছে:
শহরতলিতে আবাসন: কলকাতার আকাশছোঁয়া বাড়িভাড়া বা জবরদখল থেকে বাঁচতে অনেকেই দক্ষিণ বা উত্তর শহরতলির (গড়িয়া, সোনারপুর বা বারাসাত) দিকে সরছেন।
ভিন রাজ্যে কর্মসংস্থান: তরুণ প্রজন্মের একটি বিশাল অংশ কাজের সূত্রে বেঙ্গালুরু, পুনে বা হায়দ্রাবাদের মতো শহরে পাকাপাকিভাবে চলে যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অশনি সংকেত: অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, যেভাবে বাঙালি ভোটাররা কলকাতা ছাড়ছেন এবং অ-বাঙালি জনবসতি বাড়ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে কলকাতা ‘বাঙালি শূন্য’ হয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রাজনৈতিকভাবে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ফলে কলকাতার নির্বাচনি সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে।
নিজের ভিটেমাটি ছেড়ে বাঙালির এই দেশত্যাগ বা শহরত্যাগ কি শুধুই অর্থনৈতিক কারণে? না কি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো সামাজিক চাপ? খসড়া তালিকা প্রকাশের পর এই চর্চা এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রয়িং রুম— সর্বত্র।