বাঘের গল্প সাজিয়ে স্বামীকে খুন, ক্ষতিপূরণের লোভে ভয়ঙ্কর কাণ্ড করল স্ত্রী, থমকে গেল গোটা গ্রাম

বাঘের আক্রমণে স্বামী নিখোঁজ হওয়ার গল্প ফেঁদেছিল স্ত্রী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পুলিশের জেরার মুখে বেরিয়ে এল এক ভয়ংকর সত্যি। বাঘ নয়, বরং ১৫ লক্ষ টাকা সরকারি ক্ষতিপূরণের লোভে নিজের স্বামীকেই বিষ খাইয়ে খুন করেছে ওই মহিলা। ঘটনাটি ঘটেছে কর্ণাটকের মাইসুরু জেলার চিক্কাহেজুর গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রামের পাশে বাঘের আনাগোনার খবর ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই বাঘের গর্জন শুনেছেন বলে দাবি করেন। এই খবর শুনে সুপারি বাগানে কর্মরত এক মধ্যবয়সী মহিলা, সালাপুরি, পরিকল্পনা করে। সে গ্রামে গিয়ে প্রচার করে যে তার স্বামীকে বাঘে টেনে নিয়ে গেছে।
মহিলা জানায়, রাতের দিকে তার স্বামী ভেঙ্কটস্বামী (৪৫) বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন, ঠিক তখনই বাঘের গর্জন শোনা যায়। তাই সে নিশ্চিত যে তার স্বামী বাঘের পেটে গেছে।
এই খবর পেয়ে পুলিশ ও বন দফতরের কর্মীরা জঙ্গলে তল্লাশি শুরু করেন। কিন্তু ভেঙ্কটস্বামীর কোনো দেহাংশ বা বাঘের আক্রমণের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এতেই পুলিশের সন্দেহ হয় এবং তারা ভেঙ্কটস্বামীর স্ত্রী সালাপুরিকে জেরা শুরু করে।
একপর্যায়ে সালাপুরি ভেঙে পড়ে এবং পুরো ঘটনাটি স্বীকার করে নেয়। সে জানায়, সুপারি বাগানে কাজ করার সময় সে শুনেছিল যে বন্যপ্রাণীর আক্রমণে কেউ মারা গেলে তার পরিবারকে ১৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। এই লোভেই সে স্বামীকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে। এরপর স্বামীর দেহ তাদের বাড়ির পিছনের খাটালে গোবরের স্তূপের নিচে লুকিয়ে রাখে, যাতে কেউ সন্দেহ না করে।
নিছক ক্ষতিপূরণের লোভে এমন ভয়ংকর অপরাধে হতবাক পুলিশ ও স্থানীয়রা। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।