রবিবার সকালে যেন এক বিভীষিকার সাক্ষী থাকলেন দিল্লি থেকে বাগডোগরাগামী ইন্ডিগো বিমানের (৬ই-৬৬৫০) যাত্রীরা। মাঝ আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে উদ্বেগ গ্রাস করে ২২২ জন যাত্রী ও বিমানকর্মীদের। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে তড়িঘড়ি বিমানটির অভিমুখ ঘুরিয়ে লখনউ বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
শৌচাগারে রহস্যময় চিরকুট! সূত্রের খবর, সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে বিমানটি যখন মাঝ আকাশে, ঠিক তখনই পেছনের দিকের ল্যাভেটরিতে (শৌচাগারে) একটি টিস্যু পেপার উদ্ধার হয়। তাতে স্পষ্টাক্ষরে লেখা ছিল— ‘বিমানে বোমা আছে’। এই চিরকুট মেলা মাত্রই পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং ৯টা ১৭ মিনিটে লখনউ বিমানবন্দরে বিমানটি নিরাপদ দূরত্বে অবতরণ করে।
বোমাতঙ্কের মধ্যে তেজস্ক্রিয় পদার্থের রহস্য! তদন্ত শুরু হতেই বেরিয়ে আসে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গেছে, বিমানটির লাগেজ কম্পার্টমেন্টে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় বেশ কিছু তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছিল। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এগুলি আসলে ক্যানসার চিকিৎসার জীবনদায়ী ওষুধ। ‘এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ড’-এর প্রয়োজনীয় শংসাপত্র (NOC) নিয়েই এই পদার্থগুলি বিমানে তোলা হয়েছিল। তবে বোমাতঙ্কের মধ্যে এই তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক দ্বিগুণ বেড়ে যায়।
নিরাপদেই যাত্রীরা, শুরু তদন্ত বিমানটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই বম্ব থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট কমিটি (BTAC), বম্ব স্কোয়াড এবং কুইক রেসপন্স টিম তল্লাশি শুরু করে। বিমানে থাকা ৮ জন শিশুসহ মোট ২২২ জন যাত্রী এবং ৭ জন ক্রু মেম্বারকে নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে। বর্তমানে বিমানটিকে বিমানবন্দরের একটি নির্জন অংশে রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করা হচ্ছে।
বারবার বিতর্কে ইন্ডিগো বিমান পরিষেবা এবং নিরাপত্তার ইস্যুতে ইন্ডিগো ইদানিং বারবার শিরোনামে আসছে। কখনও জ্বালানি সংকট, কখনও বা আচমকা বিমান বাতিল— এই সবের জেরে সম্প্রতি ডিজিসিএ (DGCA) তাদের ২২ কোটি টাকা জরিমানাও করেছে। রবিবারের এই ঘটনা সেই বিতর্কিত তালিকায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল। পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।