বাংলার ভোট ময়দানে এবার ‘বাংলো-যুদ্ধ’! নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবমুক্ত রাখতে নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। অপসারিত ১১ জন জেলাশাসককে (DM) অবিলম্বে তাঁদের সরকারি বাংলো খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালের উপস্থিতিতে এক ভিডিও কনফারেন্সে সাফ জানানো হয়েছে, নতুন জেলাশাসকদের কাজে কোনওরকম বাধা বরদাস্ত করা হবে না।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ, গত কয়েক নির্বাচনে দেখা গিয়েছে পদ থেকে সরানো হলেও প্রাক্তন জেলাশাসকরা বাংলো ছাড়েননি। এর ফলে নতুন আধিকারিকদের সার্কিট হাউস থেকে কাজ চালাতে হয় এবং নীচতলার কর্মীরা ভাবেন ভোটের পর পুরনো সাহেবই ফিরে আসবেন। এই মানসিকতা ভাঙতেই জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন প্যানেল এবার কঠোর। বুধবারই রাজ্যকে না জানিয়ে ১১ জন ডিএম-কে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন, যাদের মধ্যে পাঁচজনকে তামিলনাড়ুতে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে।
এই বদলি নিয়ে জল গড়িয়েছে কলকাতা হাইকোর্টেও। রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছেন, “ভোটের স্বার্থে বদলি করা যায়, কিন্তু অন্য রাজ্যে পাঠানোর এক্তিয়ার কমিশনের নেই।” এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই মামলার শুনানি করবে। কমিশন বনাম নবান্নের এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।