রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR প্রক্রিয়া ঘিরে এবার সরাসরি সংঘাতের পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্ন থেকে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে একতরফাভাবে। তাঁর অভিযোগের তিরে সরাসরি দিল্লি এবং নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় দফতর।
“৫৪ লক্ষ নাম বাদ কীভাবে?”
মুখ্যমন্ত্রী এদিন পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন:
জানেই না জনতা: “৫৪ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। মজার বিষয় হলো, যাঁদের নাম বাদ গেছে তাঁরা নিজেরাও জানেন না যে তাঁরা আর ভোটার নন।”
যুক্তিহীন গরমিল: SIR শুনানিতে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের অমিল পাওয়ার যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, তাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন মমতা। তাঁর মতে, দিল্লির নির্দেশে এই সবটাই করা হচ্ছে।
ইআরও-র ওপর দায় চাপানো: কমিশন দাবি করছে স্থানীয় নির্বাচনী আধিকারিকরা (ERO) এই নাম বাদ দিয়েছেন, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দাবি— এটি ডাহা মিথ্যা।
বৈধ ভোটারদের নিয়ে আশঙ্কা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশঙ্কা, যে ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম কাটার প্রক্রিয়া চলছে, তাঁদের সিংহভাগই বাংলার স্থায়ী ও বৈধ বাসিন্দা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, মতুয়া অধ্যুষিত এলাকা এবং উত্তরবঙ্গের সীমান্ত জেলাগুলোতে এই নাম কাটার প্রভাব সবচেয়ে বেশি হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, নাম কাটার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কেন নোটিশ দেওয়া হলো না? নোটিশ না পেলে তাঁরা নিজেদের বৈধতা প্রমাণ করবেন কীভাবে?
নির্বাচন কমিশনকে কড়া হুঁশিয়ারি
এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই চেষ্টা তিনি সহ্য করবেন না। কমিশনের এই ‘ভুল’ মেলা বা ‘মিসম্যাচ’-এর তত্ত্ব আদতে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করছে শাসকদল।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বাজার আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বনাম কমিশনের এই দ্বৈরথ যে আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে চলেছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল এদিনের বক্তব্যে।





