২০২৬-এর মহাযুদ্ধে কার দখলে যাচ্ছে নবান্ন? ভোট মিটতেই এখন এই একটি প্রশ্নেই উত্তাল গোটা বাংলা। তবে শনিবারের বুথফেরত সমীক্ষা বা এক্সিট পোলগুলি যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে স্বস্তিতে নেই কোনো শিবিরই। এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে এগোচ্ছে রাজ্য। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এমন চিত্র এর আগে বাংলার রাজনীতি খুব একটা দেখেনি। ম্যাজিক ফিগার ১৪৮ ছুঁতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তৃণমূল এবং বিজেপি—উভয় পক্ষই।
ম্যাজিক ফিগারের দোলাচলে দুই পক্ষ:
অধিকাংশ সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি দুই প্রতিপক্ষই জয়ের দোরগোড়ায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। ‘Matrize’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিজেপি পেতে পারে ১৪৬ থেকে ১৬১টি আসন। অন্যদিকে, ঘাসফুল শিবিরের ঝুলিতে যেতে পারে ১২৫ থেকে ১৪০টি আসন। যদি বিজেপির আসন সংখ্যা ১৪৬-এ থমকে যায়, তবে বাংলা সরাসরি ‘ত্রিশঙ্কু বিধানসভার’ (Hung Assembly) সম্মুখীন হবে। আবার ‘PMARQ’-এর সমীক্ষায় বিজেপিকে ১৫০-১৭৫ এবং তৃণমূলকে ১১৮-১৩৮টি আসন দেওয়া হয়েছে। এখানে বিজেপির নিম্নসীমা ম্যাজিক ফিগারের অত্যন্ত কাছে হওয়ায় এক নড়বড়ে ম্যান্ডেটের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
নীরব ভোটারদের চাপে দ্বিধায় সমীক্ষক সংস্থা:
বাংলার ভোটব্যাংকের এক বিরাট অংশ এবার নীরব ছিল। এই ‘সাইলেন্ট ভোটার’দের মেজাজ বুঝতে না পেরে ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’-র মতো অভিজ্ঞ সংস্থা কোনো পরিসংখ্যান প্রকাশ করতেই সাহস পায়নি। ফলে বাস্তবের ফলাফল সমীক্ষার চেয়ে অনেকটাই আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
কিংমেকার হতে পারেন কারা?
যদি কোনো দলই এককভাবে ১৪৮টি আসন না পায়, তবে শুরু হবে জোটের অঙ্ক। বিজেপিকে সেক্ষেত্রে নির্দল বা ছোট দলগুলির মুখাপেক্ষী হতে হবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের নজর থাকবে বাম-কংগ্রেস শিবিরের দিকে। জাতীয় রাজনীতিতে ‘ইন্ডিয়া’ ব্লকের অংশীদার হলেও বাংলায় তৃণমূলকে সমর্থনের প্রশ্নে এখনও ধোঁয়াশা জিইয়ে রেখেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ফলাফল না আসা পর্যন্ত তাঁরা কোনো মন্তব্য করবেন না। যদি কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে রাজ্যে সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা।
এবারের নির্বাচনে ৯২ শতাংশের বেশি রেকর্ড ভোটদান হয়েছে। এই বিপুল স্বতঃস্ফূর্ততা পরিবর্তনের ইঙ্গিত নাকি স্থিতাবস্থার, তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। ৪ মে সকাল থেকেই স্পষ্ট হবে বাংলার ভবিষ্যৎ। শেষ পর্যন্ত কি বাম বা কংগ্রেস নগণ্য আসন নিয়েই ‘কিংমেকার’ হয়ে উঠবে? নাকি একক শক্তিতেই কেউ পৌঁছে যাবে নবান্নের অলিন্দে? উত্তর জানতে আপাতত মুখিয়ে গোটা দেশ।





