বাংলার শিল্পে ‘বিজেপি-ম্যাজিক’! ১৬০০ কোটির বিনিয়োগ নিয়ে রাজ্যে ফিরল বার্জার ও পিয়ারলেস

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গেই বদলে যাচ্ছে বাংলার শিল্প মানচিত্র। তৃণমূল জমানার দীর্ঘস্থায়ী শিল্পের খরা কাটিয়ে, বিজেপির নতুন সরকারের হাত ধরে রাজ্যে ফিরছে আস্থার পরিবেশ। এতদিন যে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি ও জমি নীতি নিয়ে শিল্পমহলে আতঙ্ক ছিল, তা কাটিয়ে এখন নতুন স্লোগান—‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। সম্প্রতি বার্জার পেইন্টস ও পিয়ারলেস গোষ্ঠীর ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকার বিশাল বিনিয়োগের ঘোষণা সেই আশার আলোকেই আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

দীর্ঘদিন ধরে শিল্পহীন পশ্চিমবঙ্গ ও বেকারত্বের গ্লানি সহ্য করেছে বাংলার যুবসমাজ। যে রাজ্য একসময় জিডিপিতে দেশের শীর্ষে ছিল, তৃণমূল আমলে তা তলানিতে এসে ঠেকেছিল। একের পর এক কারখানার ঝাঁপ বন্ধ হওয়ায় এবং কর্মসংস্থানের অভাবে প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীদের রাজ্য ছাড়তে হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে, বিজেপির এই সরকার শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্যবসায়িক হস্তক্ষেপ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইন আনা হচ্ছে। সিন্ডিকেট বা অবৈধ অর্থ আদায়ের চক্র ভাঙতে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

বিনিয়োগের এই জোয়ারে শামিল হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম দুধ সমবায় সংস্থা ‘আমূল’। সাড়ে ছ’শো কোটি টাকার মেগা প্রকল্প নিয়ে তারা বাংলায় পা রাখছে। শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় জানিয়েছেন, সরকারি চাকরির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান তৈরিই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। যাতে রাজ্যের মেধাবী ছেলেমেয়েরা যোগ্যতা অনুযায়ী নিজ বাসভূমেই কাজের সুযোগ পায়। পাশাপাশি, রশ্মি গ্রুপ রাজ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রশ্মি গ্রুপের জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট লালবাবু চৌরাসিয়া জানিয়েছেন, বাংলার বর্তমান ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভাইব’ বা পরিবেশ আগের তুলনায় অনেকটাই বদলেছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তনই বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। তৃণমূল জমানার তথাকথিত ‘বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিট’-এ কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেখা গেলেও ভারী শিল্প মেলেনি। কিন্তু নতুন সরকারের স্বচ্ছ নীতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রতিশ্রুতিতে শিল্পমহল এখন নতুন করে স্বপ্ন দেখছে।

রাজ্যবাসীর প্রত্যাশা, সিন্ডিকেট আর রাজনৈতিক বাধার কাঁটা সরে গেলে পশ্চিমবঙ্গ আবারও তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি থেকে শুরু করে সিন্ডিকেট উচ্ছেদ—বিজেপি সরকারের একের পর এক সাহসী পদক্ষেপ শিল্পমহলে এক অভূতপূর্ব আস্থার বাতাবরণ তৈরি করেছে। রাজ্যের অর্থনীতিতে এই নতুন প্রাণসঞ্চার, বিশেষ করে বার্জার, পিয়ারলেস ও আমূলের মতো জায়ান্টদের বিনিয়োগ বাংলার শিল্পায়নের ইতিহাসে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।