বাংলার মুকুটে নয়া পালক! মালয়েশিয়ায় ‘বিশ্বের সেরা শিক্ষক’ হলেন আসানসোলের দীপনারায়ণ নায়েক, কারণ জানলে গর্বে বুক ফুলবে

বাঙালি হিসেবে এই এক বিরাট গর্বের খবর! পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের শিক্ষক দীপনারায়ণ নায়েক (Dip Narayan Nayek) মালয়েশিয়ার গ্লোবাল এডুকেটর সামিটে প্রথম বাঙালি হিসেবে পেলেন ‘বিশ্বের সেরা শিক্ষক’-এর সম্মান। তাঁর উদ্ভাবনী শিক্ষণ পদ্ধতি ‘থ্রী জেনারেশন লার্নিং’ মডেলের জন্যই তিনি এই বিশেষ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।
কে এই দীপনারায়ণ নায়েক? ‘রাস্তার মাস্টার’-এর পরিচয়
আসানসোলের জামুরিয়া নামু পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপনারায়ণ নায়েক। স্কুলের শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁর আরও একটি বড় পরিচয় রয়েছে— ‘রাস্তার মাস্টার’। তিনি এলাকায় এলাকায় পিছিয়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের সম্পূর্ণ নিখরচায় শিক্ষাদান করেন।
তাঁর চালু করা শিক্ষাদান পদ্ধতি এতটাই অভিনব যে, গ্রামের রাস্তার দেওয়ালগুলিতেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ব্ল্যাকবোর্ড ও অক্ষরমালা। প্রতিদিন বিকেল পাঁচটায় সেখানে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে উপস্থিত হন তাদের মা-বাবা ও ঠাকুমা-ঠাকুরদারাও।
বিশ্বজয়ী ‘থ্রী জেনারেশন লার্নিং’ মডেল
যে মডেলের জন্য তিনি বিশ্বসেরার সম্মান পেয়েছেন, তা হলো ‘থ্রী জেনারেশন লার্নিং’ (Three Generation Learning)। এই মডেলে তিনটি স্তরে শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে:
১. প্রথমে দীপনারায়ণ বাবু ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষাদান করেন।
২. পরবর্তীতে, সেই ছাত্রছাত্রীরাই তাদের মা-বাবা ও ঠাকুমা-ঠাকুরদাদের শিক্ষাদান করেন।
এই অভিনব পদ্ধতিতে একসঙ্গে তিনটি প্রজন্ম শিক্ষার আলো পাচ্ছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে এই শিক্ষাদানের ব্যবস্থা আজ বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে পড়েছে।
মালয়েশিয়ার মঞ্চে সেরা শিক্ষকের সম্মান
গত কয়েকদিন আগে মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি পেনডিডিকান সুলতান ইদ্রিস (UPSI) ও মালয়েশিয়া সরকার একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। সেখানে ৫৭টি দেশের ২৪৪ জন প্রার্থী এবং ৮১ জন ফাইনালিস্টের মধ্যে থেকে দীপনারায়ণ বাবু তাঁর ‘থ্রী জেনারেশন লার্নিং’ মডেলের জন্য ‘অ্যাভ্যান্ট গার্ড টিচার’ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ বিভাগে বিশ্বজয়ী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
পুরস্কার গ্রহণের পর শিক্ষক দীপনারায়ণ নায়েক বলেন, “আমি যেভাবে বিশ্ব দরবারে এই কাজটি তুলে ধরেছি, একই ভাবেই আগামীদিনে এই কর্মকাণ্ড চলতে থাকবে।” তিনি দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে ও সমাজ সংস্কারে যুক্ত গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, সকলে একত্রিতভাবে কাজ করলে ভারতের নাম আরও উজ্জ্বল হবে বিশ্ব দরবারে।