কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড আজ এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক ইতিহাসের সাক্ষী থাকল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের রাজ্যপাল আর এন রবি তাঁকে গোপনীয়তার ও পদের শপথবাক্য পাঠ করান। মঞ্চে তখন উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ব্রিগেডের জনসমুদ্রের গর্জন আর শঙ্খধ্বনির মধ্যে দিয়ে বাংলায় শুরু হলো এক নতুন প্রশাসনিক অধ্যায়।
আজকের এই মেগা ইভেন্টের শুরুটা ছিল দেখার মতো। সকালে কলকাতা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান শুভেন্দু নিজেই। এরপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একই হেলিকপ্টারে চড়ে রেসকোর্সে পৌঁছান তিনি। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত হুডখোলা গাড়িতে করে প্রধানমন্ত্রী এবং রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে জনজোয়ারের মাঝখান দিয়ে যখন তাঁরা মঞ্চের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন গোটা ব্রিগেড চত্বর যেন এক উৎসবের চেহারা নিয়েছিল।
শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এদিন আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেতা মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই তালিকায় রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডুর মতো বিশিষ্ট নাম। নতুন এই মন্ত্রিসভা গঠনের মধ্য দিয়ে বিজেপি বাংলায় যে এক শক্তিশালী প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে চলেছে, তা আজ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট বসিয়েছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, উত্তরপ্রদেশের যোগী আদিত্যনাথ এবং অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু। জাতীয় স্তরের এই নেতাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক আন্তর্জাতিক মানের রূপ দেয়।
উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—উভয় কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে দলনেতা নির্বাচিত করা হয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেন। আজ সেই আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা হলো। ব্রিগেডের এই ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী বাংলার উন্নয়নের কোন নতুন দিশা দেখান, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।





