“বাংলার জন্য ১০ দফা গ্যারান্টি!”-ব্রিগেডের মাঠ থেকে তৃণমূলের বিদায়ে সুর বাঁধলেন মোদী!

সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। আর তার ঠিক আগে রবিবাসরীয় ব্রিগেডে জনজোয়ার দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২১-এর পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ঠিক ৫ বছর পর ফের সেই একই মাঠ থেকে নাম না করে তৃণমূল নেত্রী ও তাঁর সরকারকে কড়া আক্রমণ শানালেন তিনি। মোদীর ভাষায়, “বাংলা থেকে এবার নির্মম সরকারের বিদায় নিশ্চিত।”

প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ বক্তৃতার যে ১০টি মূল পয়েন্ট এবারের নির্বাচনে বিজেপির রণকৌশল হতে চলেছে, তা নিচে দেওয়া হলো:

১. উন্নয়ন আটকে দিচ্ছে ‘নির্মম’ সরকার: মোদী অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকারে না থাকলেও বাংলার জন্য ১৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দিচ্ছে কেন্দ্র। কিন্তু তৃণমূল সেই সব প্রকল্পে ‘ব্রেক’ কষে রেখেছে যাতে মানুষ সুবিধা না পায়।

২. মনীষীদের স্বপ্নের বাংলা: রবীন্দ্রনাথ-বিদ্যাসাগর-রানি রাসমণিদের ভাবনায় যে মহান বাংলা ছিল, তা পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়েছেন তিনি।

৩. চাকরি যখন খোলা বাজারে: রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, বর্তমানে তৃণমূলের আমলে চাকরি খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যুবকদের বাধ্য হয়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে।

৪. কাটমানি সংস্কৃতি: তৃণমূলের একমাত্র লক্ষ্য কাটমানি। কমিশন না মিললে কেন্দ্রীয় প্রকল্প গ্রামে পৌঁছাতে দেওয়া হয় না বলে দাবি মোদীর।

৫. আবাস যোজনায় বঞ্চনা: বাড়ির প্রকল্পের নাম বদলে দিয়েও প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর।

৬. ডিগ্রি আছে, কাজ নেই: বাংলার মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা ডিগ্রি পেলেও কাজ পাচ্ছেন না। বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যেই কর্মসংস্থান হবে— এটাই ‘মোদী গ্যারান্টি’।

৭. আরজি কর ও সন্দেশখালি ইস্যু: রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চরম সরব হয়ে মোদী বলেন, “অপরাধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে এই সরকার। বাংলার মহিলাদের আজ বলতে হয় সন্ধে নামার আগে বাড়ি ফিরে এসো।”

৮. অনুপ্রবেশ ও জনবিন্যাস: অনুপ্রবেশকারীরা বাংলাকে লুটে নিচ্ছে এবং বাঙালি হিন্দুদের সংখ্যালঘু করে দিচ্ছে বলে বিস্ফোরক দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

৯. রাষ্ট্রপতিকে অপমান: দ্রৌপদী মুর্মুর প্রসঙ্গ তুলে মোদী বলেন, তৃণমূল রাষ্ট্রপতিকে নয়, আসলে দেশের আদিবাসী ও কোটি কোটি মহিলাকে অপমান করেছে।

১০. সাংবিধানিক সংস্থায় আঘাত: নির্বাচন কমিশন থেকে সেনাবাহিনী— সব নিরপেক্ষ সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলাই তৃণমূলের কাজ বলে তোপ দাগেন তিনি।

মোদী এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এবারের লড়াই হবে ‘জঙ্গলরাজ’ বনাম ‘বিকাশ’-এর। যদিও আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে তৃণমূল ছিল, কিন্তু কৌশলগতভাবে একবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম মুখে আনেননি তিনি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy