বাংলায় বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ! বিশেষ দিনে কি বড় চমক নিয়ে রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ?

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ সময়। আগামী ১৯ অগস্ট রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে। আর এই বিশেষ মাইলফলক এবং ঐতিহাসিক দিনটিকে কেন্দ্র করেই আগামী ২০ অগস্ট তিনদিনের রাজ্য সফরে বাংলায় আসতে চলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৯ অগস্ট নতুন সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে একাধিক বিশেষ অনুষ্ঠান ও উৎসবের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ঠিক তার পরেই অর্থাৎ ২০ অগস্ট থেকে শুরু হতে চলেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তিনদিনের ঠাসা বঙ্গ সফর। এই সফরে নিছক দলীয় উৎসব বা জনসংযোগই নয়, বরং রাজ্যের প্রশাসনিক কাজের গতিপ্রকৃতি এবং সাংগঠনিক স্থায়িত্ব খতিয়ে দেখতে একগুচ্ছ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করবেন তিনি।

সূত্রের খবর, ২১ ও ২২ অগস্ট রাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার কথা রয়েছে অমিত শাহের। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে চলা বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং অনুদানপ্রাপ্ত উন্নয়নমূলক কাজগুলির অগ্রগতি ঠিকঠাক হচ্ছে কি না, তা তিনি নিজে পর্যালোচনা করবেন। পাশাপাশি, উন্নয়নমূলক কাজের পথে কোথাও কোনও প্রশাসনিক জটিলতা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এবারের এই সফরে নজর কাড়ছে নবান্ন বৈঠক ও উত্তরবঙ্গ সফর প্রসঙ্গটি। গুঞ্জন রয়েছে, এই সফরকালে তিনি সরাসরি নবান্নে গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। এ ছাড়া বঙ্গ বিজেপির কোর কমিটি এবং রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠকেও তাঁর উপস্থিত থাকার কথা জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২২ অগস্ট শিলিগুড়িতে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। নতুন সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জনমুখী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরতে শিলিগুড়ির কাছে কাওয়াখালিতে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে তাঁর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফরের চূড়ান্ত ও বিস্তারিত সূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত মাসে তিনদিনের সফরে বাংলায় এসে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে পৃথক প্রশাসনিক ও দলীয় বৈঠক করেছিলেন অমিত শাহ। তবে সরকারের ১০০ দিন পূর্তির ঠিক প্রাক্কালে তাঁর এই নতুন সফর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।