বাংলায় দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি গড়ছে নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার কোনো ফাঁক রাখতে নারাজ কমিশন। মঙ্গলবার নির্বাচন সদন সূত্রে জানানো হয়েছে, দ্বিতীয় দফার ভোটের জন্য বাংলায় মোতায়েন করা হচ্ছে মোট ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই বিপুল পরিমাণ ফোর্স মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিক ভোট ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ।
কোন জেলায় সবথেকে বেশি বাহিনী?
কমিশন সূত্রের খবর অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় যে জেলাগুলিতে ভোট রয়েছে, সেখানে স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিচার করে বাহিনী বণ্টন করা হয়েছে।
দার্জিলিং ও কালিম্পং: পাহাড়ের শান্তি বজায় রাখতে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি চালাতে এখানে বড়সড় বাহিনী থাকছে।
উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর: এই জেলাগুলিতে সীমান্ত এবং বুথের উত্তেজনা প্রবণতা দেখে বিশেষ কোম্পানি বরাদ্দ করা হয়েছে।
মালদা: গত দফার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে মালদাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
ঠিক কোন জেলা কত কোম্পানি পাচ্ছে, তার বিস্তারিত তালিকা ইতিমধ্যেই জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের কাছে পাঠানো শুরু হয়েছে।
কমিশনের লক্ষ্য: ১০০% বুথে ওয়েবকাস্টিং ও ফোর্স
রাজ্য পুলিশের ওপর ভরসা না রেখে, প্রতিবারের মতো এবারও বুথের ভেতরে এবং বাইরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইছে কমিশন।
কিউআরটি (QRT) বা কুইক রেসপন্স টিম তৈরি রাখা হবে যাতে ঝামেলার খবর পেলেই মিনিট কয়েকের মধ্যে বাহিনী পৌঁছাতে পারে।
স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রুট মার্চ এবং এরিয়া ডমিনেশন বাড়িয়ে ভোটারদের আত্মবিশ্বাস ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বিরোধীদের দাবি বনাম শাসকদলের প্রতিক্রিয়া
বিরোধীদের দাবি, যত বেশি বাহিনী থাকবে, মানুষ তত নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন। অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূলের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে ভোটারদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে বিজেপি।
এখন দেখার, ২৩২১ কোম্পানি বাহিনীর উপস্থিতিতে বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোট কতটা শান্তিপূর্ণ এবং অবাধ হয়।
আপনার এলাকায় কি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছেছে? ভোট নিয়ে আপনি কি নিরাপদ বোধ করছেন? আপনার মতামত নিচে কমেন্ট বক্সে লিখুন।





