ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বর্তমানে এক নজিরবিহীন টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর—ওপার বাংলায় ‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন এবং ভারতবিরোধী স্বর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। এমন এক উত্তপ্ত আবহে ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগ আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনদের একাংশ। বিশেষ করে, ৯.২০ কোটি টাকায় কলকাতা নাইট রাইডার্সে (KKR) নাম লেখানো মুস্তাফিজুর রহমানকে ‘ব্যান’ করার দাবিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে।
তবে ভক্তদের এই দাবি সরাসরি নস্যাৎ করে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। বোর্ডের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, মুস্তাফিজুরের আইপিএল খেলতে কোনও বাধা নেই। বিসিসিআই-এর এক শীর্ষ আধিকারিক ‘ইনসাইড স্পোর্টস’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হলেও বাংলাদেশ আমাদের শত্রু দেশ নয়। ভারত সরকার যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনও বিশেষ নিষেধাজ্ঞা জারি করছে, ততক্ষণ কোনও নির্দিষ্ট দেশের খেলোয়াড়কে আমরা ব্যান করতে পারি না।”
উল্লেখ্য, গত বছর আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়। নিরাপত্তার খাতিরে ভারত সরকারের পরামর্শে টিম ইন্ডিয়ার বাংলাদেশ সফরও বাতিল করা হয়েছিল। সেই রেশ টেনেই অনেকে দাবি তুলেছিলেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আইপিএল থেকে দূরে রাখা হোক। তবে বোর্ড স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা সরকারি নীতির বাইরে গিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না।
বিসিসিআই ছাড়পত্র দিলেও মুস্তাফিজুরের কেকেআর-এর জার্সিতে নামা নিয়ে কিন্তু এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। এপ্রিল মাসে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ রয়েছে। যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) তাকে এনওসি (NOC) না দেয়, তবে আইপিএলের বেশ কিছু ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না। এমনকি ওপারের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে মুস্তাফিজুর নিজেও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে সরে দাঁড়াতে পারেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। এখন দেখার, মাঠের লড়াইয়ে ক্রিকেটীয় সম্পর্ক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারে কি না।





