বাংলাদেশে ১ মাসেই ১০ খুন, বিধবা তরুণীকে গণধর্ষণ, হিন্দু নির্যাতনের ভয়াবহ খতিয়ান!

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের দামামা বাজতেই সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর নেমে এসেছে অবর্ণনীয় অত্যাচারের পাহাড়। গত ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক হিংসায় অন্তত ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করেছে ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’। খুনের পাশাপাশি ধর্ষণ, লুঠতরাজ এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ওপার বাংলার সংখ্যালঘু জনজীবনে এখন ত্রাহি ত্রাহি রব।

ভয়াল ডিসেম্বরের খতিয়ান ঐক্য পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধু ২০২৫-এর ডিসেম্বর মাসেই সংখ্যালঘুদের ওপর অন্তত ৫১টি বড়সড় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে খুনের পাশাপাশি মন্দির ভাঙচুর ও উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগের মতো নৃশংস ঘটনাও রয়েছে। সংগঠনের দাবি, সংখ্যালঘু ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরি করে তাঁদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই ছক কষা হচ্ছে।

জানুয়ারিতেও অব্যাহত ‘হত্যালীলা’ নতুন বছরের শুরুতেই আরও ভয়ংকর রূপ নিয়েছে এই হিংসা:

  • শরীয়তপুর: এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে খুন করে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

  • ঝিনাইদহ: প্রকাশ্য দিবালোকে গয়নার দোকান থেকে প্রায় ৩০ ভরি সোনা লুঠ করার পাশাপাশি এক হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণ ও শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ সামনে এসেছে।

  • যশোর ও নরসিংদী: ৫ জানুয়ারি কর্মস্থলে ঢুকে এক কারখানা মালিককে গুলি করে এবং এক মুদি দোকানিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

  • ডাকাতির তাণ্ডব: চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় সংখ্যালঘু বাড়িতে ঢুকে সোনা ও নগদ টাকা লুঠ করার একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চরমপন্থী গোষ্ঠীর দাপট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কেবল শারীরিক হামলা নয়, প্রশাসনিক স্তরেও ধর্মীয় পরিচয় দেখে সরকারি আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলি। লক্ষ্মীপুরে এক সংখ্যালঘু কৃষকের ধানক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি প্রান্তিক স্তরে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

নিশ্চুপ প্রশাসন, শঙ্কায় আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ অবিলম্বে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে। তাদের আশঙ্কা, নিরাপত্তা না পেলে সংখ্যালঘু ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস পাবেন না। যদিও ইউনুস সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই ভয়াবহ অভিযোগগুলি নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলিও বাংলাদেশের এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।