বাংলাদেশে যুবনেতা হাদি খুনে বড় সাফল্য! যুবলীগ কর্মী গ্রেফতার হতেই উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও বারুদ

বাংলাদেশে অশান্তির আবহের মধ্যেই ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা তথা যুবনেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্যকর মোড়। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে হিমন রহমান শিকদার নামে যুবলীগের এক সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ পুলিশ। বুধবার দুপুরে ঢাকার আদাবর এলাকার একটি হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। ধৃতের কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, তাজা গুলি এবং বিপুল পরিমাণ বারুদ ও পটকা উদ্ধার হয়েছে, যা বড়সড় নাশকতার ছক বলে মনে করছে গোয়েন্দারা।
হাদি হত্যাকাণ্ড ও উত্তপ্ত বাংলাদেশ: চলতি মাসের শুরুতে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদীয় নির্বাচনের প্রচারে নামার সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন ৩২ বছর বয়সী শরিফ ওসমান হাদি। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। হাদি ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই উত্তেজনার মধ্যেই ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক সংখ্যালঘু হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে মারার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক টানাপোড়েন: হাদির সমর্থকদের অভিযোগ, মূল অপরাধীরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। যদিও বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তাদের হাতে নেই। এদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক কড়া বিবৃতিতে এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘ভ্রান্ত বয়ান’ ও ভারত-বিরোধী উস্কানিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার বিষয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ বা তথ্য এখনও ভারতের সঙ্গে ভাগ করা হয়নি। বরং হাদির মৃত্যুকে ঢাল করে উগ্রপন্থীরা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে আশঙ্কা ভারতের।
তদন্তে নয়া তথ্য: পুলিশের দাবি, ধৃত হিমন শিকদার ও তার সঙ্গীরা নতুন করে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। এই চক্রে আর কারা জড়িত, তাদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, প্রশাসন দাবি করেছে তারা প্রকৃত দোষীদের শাস্তির বিষয়ে দায়বদ্ধ।