দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের পর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় ফিরছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে বিএনপি জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। তবে জয়লাভের পরপরই নতুন সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ও বিচার নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনা কবে ফিরছেন?
নির্বাচনের ফলাফল স্পষ্ট হতেই জনমনে প্রশ্ন জেগেছে—শেখ হাসিনা কি তবে দেশে ফিরবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বর্তমান পরিস্থিতির দিকে তাকালে এর উত্তর আপাতত ‘না’। এর প্রধান কারণগুলো হলো:
মৃত্যুদণ্ডের সাজা: ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। এই সাজা বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর দেশে ফেরা মানেই কারাবরণ এবং আইনি জটিলতা।
নিষেধাজ্ঞা: শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ। ফলে দলের ব্যানারে তাঁর ফেরার কোনো পথ খোলা নেই।
প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া (Extradition): নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে তারা ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানাবেন। ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে ফেরানোর জন্য চাপ বাড়াতে চলেছে নতুন সরকার।
নির্বাচন ও গণভোটের ফলাফল:
এবারের নির্বাচনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। একই সাথে বাংলাদেশে একটি ঐতিহাসিক গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে দেশের সংবিধান সংশোধন এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের ওপর ‘দুই টার্ম’-এর সীমা আরোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো জনগণের বিপুল সমর্থনে পাস হয়েছে।
দিল্লির অবস্থান:
ভারত সরকার ইতিমধ্যে নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানালেও শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করেনি। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের দিল্লিতেই অবস্থান করছেন এবং নিকট ভবিষ্যতে তাঁর দেশে ফেরার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।





