বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বর্ষপূর্তি এবং বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) আসন্ন। যে পাকিস্তানের নির্মম অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা প্রাণ বলিদান করেছিলেন, সেই দেশে এবার ভারতের ত্রিপুরা লাগোয়া চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে এক কনফারেন্সে প্রকাশ্যেই উঠল ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান।
এই ঘটনায় তীব্র বিতর্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী ইউনূস সরকার কট্টরপন্থী জামাত ই ইসলামির সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের পাকিস্তানের হাতে বিকিয়ে দিয়েছে।
চট্টগ্রামের কনফারেন্সে কী ঘটল?
স্থান ও তারিখ: গত ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে সোয়াতুল কুরান নামে একটি মুসলিম সংগঠনের উদ্যোগে একটি ‘কিরাত কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়।
স্লোগান: সম্মেলনের এক বক্তা ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। কট্টরপন্থী মুসলিমদের ওই কনফারেন্সে পাকিস্তান থেকে আসা অতিথি ছাড়াও একাধিক দেশের চরমপন্থীরা উপস্থিত ছিলেন। বিদেশি অতিথিদের খুশি করতেই এই স্লোগান তোলা হয় বলে অভিযোগ।
ভিডিও ভাইরাল: ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, একজন দর্শক ভিডিওটি করে ফেসবুকে পোস্ট করেন।
নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগ
এই ঘটনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
Pakistan Zindabad chants at a school ground in Sandwip. This is the reality of Yunus’s so called new Bangladesh. The country is now running on an ISI-styled prescription, where anti-India sentiment is being seeded openly and #Pakistan is being glorified without fear. If this is… pic.twitter.com/u4uFWIMnk0
— Asifur Rahman Chowdhury (@Asifurrahman71) November 30, 2025
জঙ্গিদের আনাগোনা: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জামাত ই ইসলামির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ইউনূস সরকার পাকিস্তানের জঙ্গি নেতাদের অবাধ প্রবেশের জন্য দ্বার খুলে দিয়েছে। চট্টগ্রামে পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান ওঠার অর্থ— ভারত সীমান্তের কাছে জঙ্গিদের আনাগোনাও বাড়ছে।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা: এই স্লোগানকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেই ভুলিয়ে দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।
তবে, একটি ইতিবাচক দিক হলো— বাংলাদেশের একাংশের মানুষ এই ঘটনা একেবারেই ভালোভাবে নেননি। তাঁরা প্রকাশ্যেই এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করছেন।