“বাংলাদেশে খুন করে বাংলায় গা ঢাকা!”-STF-এর জালে হাদি হত্যার আরও এক ‘মাস্টারমাইন্ড’

বাংলাদেশের চাঞ্চল্যকর ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। এবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)-এর জালে ধরা পড়ল তৃতীয় অভিযুক্ত। ধৃত ব্যক্তির নাম ফিলিপ সাংমা, যিনি একজন বাংলাদেশি নাগরিক। শনিবার ভোরে নদিয়ার শান্তিপুর বাইপাস এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য: পুলিশ সূত্রে খবর, এই মামলায় আগে গ্রেফতার হওয়া দুই মূল অভিযুক্ত ফয়জল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেনকে জেরা করতেই ফিলিপের নাম উঠে আসে। জানা যায়, ফিলিপই সেই ব্যক্তি যে টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পারাপারে সাহায্য করত। ধৃত ব্যক্তি স্বীকার করেছে যে:

  • সে মূলত বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের হালুয়াঘাট (বাংলাদেশ) এবং ডালুপাড়া (মেঘালয়, ভারত) সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে লোক পাচার করত।

  • হাদি খুনের মূল দুই আসামীকেও সেই মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকিয়েছিল।

পালানোর ছক ভেস্তে দিল STF: জেরায় ফিলিপ জানিয়েছে, ফয়জল ও আলমগীর গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশি তৎপরতা বাড়তেই সে নিজেও অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে পড়ে এবং রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় গা ঢাকা দিয়ে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে ফের বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই শান্তিপুর বাইপাস থেকে তাঁকে ছেঁকে ধরে এসটিএফের আধিকারিকরা।

রাজনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: এই গ্রেফতারির পর আবারও সীমান্ত নিরাপত্তা এবং রাজ্যে বিদেশি অপরাধীদের আনাগোনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এর আগে এই ঘটনার প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা অনুরাগ ঠাকুর থেকে শুরু করে দিলীপ ঘোষ— সকলেই কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারকে বিঁধেছিলেন। ফিলিপের ধরা পড়া এই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।

ধৃত ফিলিপ সাংমাকে ইতিমধ্যেই আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত এবং এই খুনের পেছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy