বাংলাদেশে কি তবে উলটপুরাণ? ভারতবিরোধী ৩ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখন সাংসদ!

বাংলাদেশের নির্বাচন মানেই চমক, তবে এবারের ফলাফল শুধু চমকপ্রদ বললে ভুল হবে, এটি রীতিমতো অবিশ্বাস্য। যে তিন নেতার ললাটে একসময় ঝুলছিল ‘মৃত্যুদণ্ড’-এর খাঁড়া, এখন তাঁদের গলায় পরানো হচ্ছে বিজয়ের মালা। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সাংসদদের তালিকায় এমন ৩ জনের নাম উঠে এসেছে, যাঁরা ভারতের চোখে কেবল মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীই নন, বরং কট্টর ভারতবিরোধী হিসেবেই পরিচিত।

কারা এই ৩ বিতর্কিত সাংসদ? নির্বাচনে জয়ী এই তিন প্রার্থীর নেপথ্য কাহিনী হাড়হিম করা। এদের মধ্যে দু’জন বিএনপির হেভিওয়েট নেতা এবং একজন জামায়াত-ই-ইসলামির প্রার্থী।

১. লুৎফুজ্জামান বাবর: প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। ২০০৪ সালের ভয়াবহ ঢাকা গ্রেনেড হামলা এবং ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলার মূল নায়ক। ভারতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং জঙ্গিগোষ্ঠীকে অস্ত্র সরবরাহের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২. আবদুস সালাম পিন্টু: প্রাক্তন এই মন্ত্রীও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ফাঁসির সাজা পেয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, ভারতের মাটিতে নাশকতার ছক কষা জঙ্গি সংগঠনকে মদত দেওয়ার। ৩. এটিএম আজহারুল ইসলাম: ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা ও নারীনির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এই জামায়াত নেতা। তাঁকেও ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

আদালতের ম্যাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দৃশ্যপট দ্রুত বদলে যায়। দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর আদালত থেকে রহস্যজনকভাবে (মতান্তরে দ্রুত প্রক্রিয়ায়) ‘বেকসুর খালাস’ পান এঁরা। জেল থেকে বেরিয়েই সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে সংসদে প্রবেশ—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনা বিরল।

ভারতের জন্য অস্বস্তির কাঁটা? ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে ‘গণতন্ত্র’ রক্ষার বার্তা দিয়েছেন। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে এখানেই—যে তিন নেতা ভারতের মাটিতে রক্ত ঝরানোর ব্লু-প্রিন্ট তৈরির অভিযোগে দণ্ডিত ছিলেন, তাঁরাই যখন আইন প্রণেতা হয়ে সংসদে বসবেন, তখন দিল্লি-ঢাকা মৈত্রী কতটা মসৃণ হবে? ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে উদ্বেগের সঙ্গেই দেখছেন।

নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ: একসময়ের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন কি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে? নাকি এটি ক্ষমতার পটপরিবর্তনের একটি অনিবার্য ফল? আপাতত এই ৩ ‘ভারতবিরোধী’ সাংসদের গতিবিধি এবং তাঁদের প্রতি তারেক রহমান সরকারের মনোভাবই ঠিক করে দেবে আগামী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির মোড়।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy