দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফল স্পষ্ট। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এককভাবে ২০৯টি আসন জিতে ম্যাজিক ফিগার পার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জোট মিলিয়ে তাদের আসন সংখ্যা ২১২। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেই জোড়া আসনে (ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬) জয়ী হয়ে নিজের দাপট প্রমাণ করেছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান।
বাংলাদেশে ‘BJP’-র জয়!
এই নির্বাচনের সবচেয়ে মজার তথ্য হলো, বাংলাদেশেও একটি আসনে জয়ী হয়েছে BJP! তবে এটি ভারতের ‘ভারতীয় জনতা পার্টি’ নয়, বরং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। মজার বিষয় হলো, ভারতের বিজেপির প্রতীক ‘পদ্ম’ হলেও বাংলাদেশের বিজেপির প্রতীক ‘গরুর গাড়ি’।
দুই দেশের প্রতীকের গোলকধাঁধা:
দুই দেশের রাজনৈতিক দলের প্রতীকের মধ্যে রয়েছে অদ্ভুত মিল:
হাতি: ভারতের বিএসপি-র (BSP) প্রতীক হাতি হলেও বাংলাদেশে এই প্রতীক বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি-র।
সাইকেল: সমাজবাদী পার্টির প্রতীক সাইকেল বাংলাদেশেও একটি জাতীয় দলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
হাত: ভারতের কংগ্রেসের ‘হাত’ চিহ্নের মতো ওপার বাংলায় মুসলিম লীগের প্রতীকও কিন্তু ‘হাত’।
জামায়াতের উত্থান ও স্থগিত ফল
এবারের নির্বাচনে দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াত-ই-ইসলামী। তারা এককভাবে ৬৮টি আসনে জিতেছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফল স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন। আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই আসন দুটির নিষ্পত্তি হবে না।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
ভোটের হার: এবার প্রায় ৫৯.৪৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। যার মধ্যে তরুণ ভোটারদের আধিক্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
নারী শক্তি: এবারের লড়াইয়ে কোনো শীর্ষ নারী নেত্রী (শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া) সরাসরি ময়দানে না থাকলেও বিএনপির ৬ জন মহিলা প্রার্থী জয়ী হয়েছেন।
নিরাপত্তা: নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে প্রায় ১০ লক্ষ নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন ছিল, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য নজির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি-র এই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও দিল্লির সাথে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।