২০২৬-এর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে পারদ চড়ছে। এবার সরাসরি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে ময়দানে নামলেন আম আদমি পার্টির (AAP) আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল। মমতার সুরেই তাঁর দাবি, বিজেপি নিজের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
“দিল্লির ছকই কি এবার বাংলায়?”
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে পরাজিত হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিল আম আদমি পার্টি। সেই নির্বাচনে খোদ কেজরিওয়াল ও মণীশ সিসোদিয়ারা পরাজিত হন। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এদিন কেজরিওয়াল ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) পোস্টে লেখেন, “বিজেপি প্রতারণার মাধ্যমে ভোট জিততে নির্বাচন কমিশনকে নিজেদের অস্ত্রে পরিণত করেছে। আজ পশ্চিমবঙ্গে যা হচ্ছে, দিল্লির নির্বাচনের সময়ও ঠিক তাই হয়েছিল। বাংলাতেও চক্রান্ত করছে গেরুয়া শিবির।”
কেজরিওয়ালের আরও অভিযোগ, দিল্লিতেও ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং পুলিশ-প্রশাসনকে বিজেপির হয়ে ব্যবহারের চেষ্টা হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট জানান, গণতন্ত্র বাঁচানোর এই লড়াইয়ে মমতার পাশেই আছেন তিনি।
কমিশনকে মমতার কড়া চিঠি
এদিকে, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের একের পর এক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ নবান্ন। বৃহস্পতিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ফের একটি কড়া চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর আপত্তির মূল জায়গাগুলি হলো:
-
অফিসার বদলি: নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনের ৫০-এর বেশি শীর্ষ আধিকারিককে ‘ইচ্ছামতো’ সরিয়ে দেওয়া।
-
রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ: মমতা চিঠিতে দাবি করেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ আদতে প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকল্পিত রাজনীতিকরণ এবং সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত।
-
গণতন্ত্রের সংকট: মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এটি আদতে একটি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র সমান।