বাঁকুড়ায় পুরুষ লেপার্ডের দেহ উদ্ধার, গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু! সঙ্গীনি কি এখনও ঘুরছে জঙ্গলে? আতঙ্কে মাইকিং বন দপ্তরের

বাঁকুড়া জেলায় বহু বছর পর একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ লেপার্ডের দেহ উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে বন দপ্তর মনে করছে, দ্রুত বেগে চলমান কোনো যানবাহনের ধাক্কায় এই লেপার্ডটির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনার পর আরও একটি আশঙ্কা ডানা বেঁধেছে— পুরুষ লেপার্ডের উপস্থিতি মানেই কি তার সঙ্গিনীও লুকিয়ে আছে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে?

বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত বনবিভাগ এলাকায় এই লেপার্ডটির দেহ উদ্ধার হয়। বন দফতর নিশ্চিত করেছে, এটি একটি পূর্ণবয়স্ক লেপার্ড বা চিতাবাঘ।

সঙ্গিনীর খোঁজে তন্ন তন্ন তল্লাশি
ডিএফও (Divisional Forest Officer) অভিজিৎ কর জানান, একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ লেপার্ড রয়েছে মানেই এলাকায় তার সঙ্গী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এই সঙ্গিনীই এখন বাঁকুড়াবাসীর প্রধান উদ্বেগের কারণ। সঙ্গিনী লেপার্ডের খোঁজে বিষ্ণুপুর পাঞ্চেত বনবিভাগ তন্ন তন্ন করে তল্লাশি চালাচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে পায়ের ছাপ ধুয়ে যাওয়ায় অনুসন্ধান কঠিন হচ্ছে।

জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য ইতিমধ্যেই বন দফতর এলাকায় সতর্কতামূলক মাইকিং শুরু করেছে। এলাকাবাসীকে, বিশেষত শিশুদের, অযথা জঙ্গলের কাছে যেতে নিষেধ করা হচ্ছে।

মেদিনীপুর পর্যন্ত ছড়াল আতঙ্ক
লেপার্ডটি কোথা থেকে এল, তা এখনও নির্ধারণ করতে পারেনি বন দফতর। তবে এরই মধ্যে বাঁকাদহ থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতায় বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে। যদিও সেটি বাঘের নাকি লেপার্ডের পায়ের ছাপ, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বন দফতরের আধিকারিকেরা সেই পায়ের ছাপ যাচাই করতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গেছেন।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি বাঁকুড়ায় মৃত পুরুষ লেপার্ডের সঙ্গিনীটিই পশ্চিম মেদিনীপুরে পৌঁছে গিয়েছে?

মৃত্যুর কারণ ও জঙ্গল নিয়ে নতুন প্রশ্ন
মৃত লেপার্ডটির ময়নাতদন্তের পর তার মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, স্পিড লিমিট না মেনে দ্রুত বেগে চলমান কোনো গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লেগেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

লেপার্ডের উপস্থিতির কারণে বনকর্মীদের মনে নতুন প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে— তবে কি ধীরে ধীরে বাঁকুড়ার জঙ্গল বাঘ থাকার উপযোগী হয়ে উঠছে? যদিও এই প্রশ্নের উত্তর এখন পরীক্ষা সাপেক্ষ।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy