বলিউডের পর এবার দক্ষিণে ইডি হানা! বিলাসবহুল গাড়ি পাচার চক্রে ফাঁসলেন পৃথ্বীরাজ, দুলকের সলমানরা?

বিলাসবহুল গাড়ি পাচার এবং অননুমোদিত বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের একটি গুরুতর অভিযোগে বুধবার কেরলজুড়ে একাধিক হাই-প্রোফাইল অফিসে তল্লাশি অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সরকারি সূত্রে খবর, এই তল্লাশি অভিযান শুল্ক (Customs) মামলার তদন্তের অংশ।

ইডি-র নজরদারিতে আছেন অভিনেতা পৃথ্বীরাজ সুকুমারন, দুলকের সলমান এবং অমিত চাক্কালকাল-সহ আরও কয়েকজন। এছাড়াও এর্নাকুলাম, ত্রিশুর, কোঝিকোড়, মালাপ্পুরম, কোট্টায়াম এবং কোয়েম্বাটুরের কিছু গাড়ির মালিক, অটো ওয়ার্কশপ এবং ব্যবসায়ীদেরও তল্লাশির আওতায় আনা হয়েছে। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ১৭টি অফিস নজরে আছে আধিকারিকদের। ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA)-এর অধীনে এই তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিলাসবহুল গাড়ির অবৈধ আমদানি
ইডি সূত্রের খবর, ভারত-ভুটান এবং নেপাল রুটে ল্যান্ড ক্রুজার, ডিফেন্ডার এবং মাসেরাটি-র মতো বিলাসবহুল গাড়ি অবৈধভাবে আমদানি এবং বিক্রির একটি বড় সিন্ডিকেটের তথ্যের ভিত্তিতে এই তল্লাশি চালানো হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে ইডি জানতে পেরেছে যে, কোয়েম্বাটুর-ভিত্তিক একটি নেটওয়ার্ক এই পাচারের কাজটি পরিচালনা করছিল। তারা ভারতীয় সেনাবাহিনী, মার্কিন দূতাবাস এবং বিদেশ মন্ত্রকের বলে দাবি করা জাল নথি ব্যবহার করত। এমনকি, অরুণাচল প্রদেশ, হিমাচল প্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্যে ভুয়ো RTO রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে গাড়িগুলি চালানো হচ্ছিল।

কম দামে গাড়ি কিনে বিপাকে তারকারা
তদন্তকারী আধিকারিকদের ধারণা, এই অবৈধভাবে আমদানি করা গাড়িগুলি পরে সিনেমা জগতের ব্যক্তিত্ব-সহ হাই নেট ওর্থ (HNI) অর্থাৎ ধনী ব্যক্তিদের কাছে কম দামে বিক্রি করা হয়েছে।

এই সূত্রেই ইডি ওই অভিনেতাদের অফিসে তল্লাশি চালাচ্ছে। ইডি আধিকারিকরা খতিয়ে দেখবেন যে এই সকল অভিনেতা যে বিলাসবহুল গাড়িগুলি কিনেছেন, সেগুলির উৎসের সঠিক কাগজপত্র আছে কি না এবং অবৈধ পাচার চক্রের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগসূত্র আছে কি না।

কেরলের চলচ্চিত্র জগতের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপর ইডি-র এই আকস্মিক তল্লাশি রাজ্যের রাজনৈতিক এবং বিনোদন মহলে বড়সড় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।