বর্ষা কি ভণ্ডুল করবে রেকর্ড? গতবার ৭৭ লক্ষ গুলাব জামুনের অর্ডার! এ বছরও কি বিরিয়ানির বাজার হবে ১১০০ কোটির?

দুর্গাপূজা মানেই শুধু প্যান্ডেল হপিং নয়, সঙ্গে থাকে জমিয়ে পেটপুজোর উৎসব। পুজোর দিনগুলোয় কলকাতার রাস্তায় যেমন আলোকসজ্জা আর আড্ডার মেলা জমে, তেমনই রেস্তোরাঁগুলিতেও চলে খাওয়া-দাওয়ার মহোৎসব। তবে এবার যারা বাইরে বেরোতে চাইছেন না, তাঁদের জন্য সুখবর—শহরের একাধিক নামকরা রেস্তোরাঁ পুজোর সময় চালু রাখছে ২৪ ঘণ্টার ডেলিভারি সার্ভিস।

ভোরবেলায় গরম চা থেকে শুরু করে গভীর রাতের কফি, দুপুরে মোগলাই কিংবা সন্ধ্যায় চাইনিজ—যা খুশি অর্ডার করুন, মুহূর্তেই তা পৌঁছে যাবে আপনার দরজায়।

অষ্টমীর ভোগ থেকে নবমীর পাঁঠার ঝোল: বিশেষ প্যাকেজ ও অফার
পুজো উপলক্ষে রেস্তোরাঁগুলির তরফে থাকছে নানা রকম অফার ও বিশেষ প্যাকেজ। ষষ্ঠী থেকেই চালু হবে বুফে লাঞ্চ ও ডিনার। মেনুতে থাকছে:

অষ্টমীর ভোগ

নবমীর পাঁঠার ঝোল

পুজো স্পেশাল থালি (যার দাম ১৯৯ টাকা থেকে ৯৯৯ টাকা পর্যন্ত হতে পারে)।

শুধু বাঙালি রেস্তোরাঁ নয়, যেসব রেস্তোরাঁ সারা বছর কন্টিনেন্টাল খাবার পরিবেশন করে, তারাও পুজোর ক’দিন বাঙালি রান্নার আয়োজন রেখেছে। মূলত রান্নাঘরের চাপ কমাতে এবং দ্রুত পরিষেবা দিতেই রেস্তোরাঁ মালিকরা থালি ও সেট মেনুতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। পুজোর সময় বুফের দাম ৮৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১৩০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

রেকর্ড কি অক্ষুণ্ণ থাকবে?
খাবারের জনপ্রিয়তার দিক থেকে গত বছর পুজোয় সবচেয়ে বেশি অর্ডার এসেছিল বিরিয়ানির জন্য। বিরিয়ানির ঠিক পরেই ছিল গুলাব জামুন। গত বছর শুধুমাত্র একটি ডেলিভারি অ্যাপ থেকেই পুজোর সময় প্রায় ৭৭ লক্ষ গুলাব জামুন অর্ডার হয়েছিল। বিরিয়ানি ও গুলাব জামুনের পাশাপাশি চিকেন, মাটন ডিশ এবং চাইনিজ খাবারেরও ছিল বিপুল চাহিদা। সব মিলিয়ে পুজোর ক’দিনে কলকাতার রেস্তোরাঁ শিল্পে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছিল।

এ বছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রেস্তোরাঁগুলি আকর্ষণীয় অফার ও প্যাকেজ এনেছে। ওয়ান পট মিল (One Pot Meal) হওয়ায় বিরিয়ানির চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। পাশাপাশি, আইসক্রিম এবং মিষ্টির অর্ডারও প্রচুর বেড়ে যায়। সব মিলিয়ে কলকাতাবাসীর পেটপুজোর সব ব্যবস্থাই এখন এক ক্লিক দূরে।

এখন নজর শুধু আকাশে!
তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—আবহাওয়া। গত বছর টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তায় জল জমে বহু অ্যাপ ডেলিভারি পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এবারে নবমী ও দশমীতে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই কারণে রেস্তোরাঁ ও ফুড অ্যাপ সংস্থাগুলির এখন নজর আকাশের দিকে। যদি প্রকৃতি সহায়তা করে, তাহলে ২০২৫-এর দুর্গাপূজায় খাওয়া-দাওয়ার বাজার ছুঁয়ে ফেলতে পারে নতুন রেকর্ড।