বর্ষার ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস? ৪৪ ডিগ্রি ফিল-লাইক থেকে বাঁচতে মানুন এই ‘৩-৩-৩’ নিয়ম!

জুন মাসের আকাশ, মেঘ আর রোদের লুকোচুরি। থার্মোমিটারে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি দেখালেও, ৮৮% আর্দ্রতার কারণে ‘ফিল লাইক’ তাপমাত্রা পৌঁছে যাচ্ছে ৪৫ ডিগ্রিতে। চিকিৎসকরা একে বলছেন ‘ওয়েট হিট স্ট্রেস’। এই আবহাওয়ায় গা চ্যাটচ্যাট করা, মাথাব্যথা, ক্ষুধামন্দা এবং প্রস্রাবের রং হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ডিহাইড্রেশন থেকে বাঁচতে বিশেষজ্ঞরা দিচ্ছেন বিশেষ পরামর্শ।

নিউট্রিশনিস্টদের মতে, শুধু জল খাওয়া যথেষ্ট নয়। ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পটাশিয়াম বেরিয়ে যায়, তাই শুধু জল খেলে সোডিয়ামের মাত্রা আরও কমে গিয়ে ‘হাইপোনাট্রেমিয়া’ হতে পারে, যা থেকে মাথা ঘোরা বা খিঁচুনি হতে পারে। এর থেকে বাঁচতে মেনে চলুন ‘৩-৩-৩’ রুল:

৩ লিটার জল: দিনে অন্তত ৩ লিটার পানীয় গ্রহণ করুন।

৩ বার ইলেকট্রোলাইট: শুধু জলের বদলে দিনে অন্তত ৩ বার ডাবের জল, ওআরএস (ORS), নুন-চিনি-লেবুর সরবত বা বাটারমিল্ক পান করুন।

৩ রকম ফল: খাদ্যতালিকায় রাখুন তরমুজ, শসা, পেঁপে বা ন্যাশপাতির মতো জলীয় ফল।

চা-কফি ডিহাইড্রেশন বাড়ায়, তাই এগুলো কমান। বাইরে বেরোনোর সময় স্টিলের বোতলে জল রাখুন, কারণ প্লাস্টিকের বোতল গরমে BPA নামক বিষাক্ত রাসায়নিক ছাড়ে। খাবার হতে হবে হালকা—তেল-মশলা এড়িয়ে খিচুড়ি, মাছের পাতলা ঝোল, লাউ-পেঁপের তরকারি ও টক দই খান। কোল্ড ড্রিঙ্কস বা আইসক্রিমের বদলে জিরা জল বা আমপোড়ার সরবত খান। ঘুমের আগে এক গ্লাস জল মাস্ট।

ত্বকের যত্নে বর্ষার তিন শত্রু হলো ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া ও ঘাম। দিনে দুবার পিএইচ (pH) ব্যালেন্সড ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুয়ে প্যাট করে মুছুন। গরমেও ময়েশ্চারাইজার মাস্ট, তবে তা হতে হবে জেল-বেসড ও নন-কমেডোজেনিক। মেঘলা দিনেও এসপিএফ ৩০ (SPF 30) সানস্ক্রিন লাগান। শরীর থেকে দুর্গন্ধ বা সংক্রমণ এড়াতে স্নানের জলে নিম পাতা বা সামান্য ডেটল মিশিয়ে নিন। শরীরের ভাঁজে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করুন। সিন্থেটিক বা টাইট জিন্সের বদলে সুতির ঢিলা জামা পরুন।

চুলের যত্নে সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করুন এবং ভেজা চুল বাঁধবেন না। মেকআপে ‘লেস ইজ মোর’ নীতি মেনে চলুন। রাতে ডাবল ক্লিনজিং জরুরি। ঘরে এসি ২৬-২৭ ডিগ্রিতে চালিয়ে সিলিং ফ্যান স্লো রাখুন, এতে আর্দ্রতা কমবে। ঘর আর্দ্রতামুক্ত রাখতে এক বাটি লবণ বা কাঠকয়লা রাখতে পারেন। প্রস্রাবের রং গাঢ় হলুদ হলে বুঝবেন শরীর ডিহাইড্রেটেড, তখন জল খাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দিন। সুস্থ থাকতে হালকা খাবার ও সুতির পোশাকই এই মরসুমের সেরা চাবিকাঠি।