বর্ধমানে TMC নেতার ‘দাদাগিরি’! তলোয়ার উঁচিয়ে যুবককে বেধড়ক মার, শুভেন্দুর পোস্ট ঘিরে তোলপাড় রাজ্য-রাজনীতি

আবারও প্রকাশ্যে চলে এলো তৃণমূল নেতার ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ। বর্ধমান পৌরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস নেতা শেখ কালোর বিরুদ্ধে অমিত রায় নামের এক যুবককে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে মার খাওয়া অমিত রায় প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে অনুনয়-বিনয় করলেও শেখ কালো কর্ণপাত করেননি। (তবে এই ভিডিওটির সত্যতা ডেইলিহান্ট যাচাই করেনি)।
ভিডিয়োয় তলোয়ার! শুভেন্দুর তোপ: ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’
ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিয়োয় সহিংসতার ভয়ঙ্কর চিত্র ফুটে উঠেছে। সেখানে দেখা যায়, শেখ কালো মাঝেমধ্যে বড় আকৃতির তলোয়ার উঁচিয়েও ভয় দেখাচ্ছেন। এই ভিডিয়োটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে লেখেন, “আবারও পশ্চিমবঙ্গে ‘ক্যাঙ্গারু কোর্ট’/সালিশি সভার নামে চলল তৃণমূল নেতার দাদাগিরি… আইনের শাসন নেই, শাসক তৃণমূলের শাসন অব্যাহত।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “এইরকম চলতে থাকলে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ ব্রিটিশ ও মোঘল শাসনের বর্বরতা-কেও হার মানাবে।” তিনি ভিডিয়োয় আইন হাতে তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
‘৫ বছর আগের ঘটনা’: তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ
তবে এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল মুখপাত্র তথা প্রাক্তন জেলা সভাধিপতি দেবু টু শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর দাবি, “বিরোধী দলনেতা যে ভিডিও দেখিয়ে টুইট করেছেন, সেটা পাঁচ বছর আগেকার ঘটনা। ভিডিওটির কোনো ভিত্তি নেই। পাঁচ বছর আগেকার ভিডিও সামনে এনে আবার সেটা সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।”
পাল্টা আক্রমণে দেবু টু শুভেন্দুকে ‘অসুর’ বলে কটাক্ষ করে বলেন, “বর্তমান সময়ে সমাজ ব্যবস্থায় একজন অসুর, অসুর রূপেই বাংলার মানুষ চেনেন তাকে। সেই অসুর বাংলায় বড় ক্ষতি করে দিয়েছে… অসুরটা ভীষণ লাফাচ্ছিল দুর্গাপুরের ঘটনায়। কিন্তু যখন সত্য সামনে এলো দুর্গাপুরের ঘটনা গণধর্ষণ নয়, তখন তার মুখ পুড়েছে। অসুরটার লুকানোর মুখ নেই তাই টুইট করছে পাঁচ বছর আগের ঘটনা নিয়ে।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা শেখ কালো এই পুরো ঘটনাকেই বিজেপির চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। স্থানীয় বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র পাল্টা দাবি করেছেন, “ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে তৃণমূল নেতা শেখ কালো অস্ত্র হাতে এক ব্যক্তিকে পেটাচ্ছেন। সে বেঁচে আছে না মরে গেছে বোঝা যাচ্ছে না। পশ্চিমবঙ্গে তালিবানি শাসন চলছে।”
এই ঘটনাকে ঘিরে এখন বর্ধমানের রাজনীতিতে উত্তাপ চরমে, এবং শাসক-বিরোধী তরজায় মূল ঘটনার সত্যতা চাপা পড়ার উপক্রম।